• facebook
  • twitter
Friday, 4 April, 2025

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মায়ানমারেও জারি গৃহযুদ্ধ

সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় আকাশ পথে হামলা জুন্টা সেনার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

 ভূমিকম্পের বিভীষিকায় এখনও ত্রস্ত মানুষ। বিধ্বস্ত মায়ানমার। কিন্তু তবুও গৃহযুদ্ধ থামার নাম নেই। মায়ানমারকে সাহায্য করার জন্যে যখন হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, তখন বিদ্রোহীদের দমন করতে সেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাচ্ছে মায়ানমারের জুন্টা সেনা। জানা গিয়েছে,  ভূমিকম্পের পর  তিন ঘণ্টা যেতে না যেতেই পূর্ব মায়ানমারের শান প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছিল সামরিক বাহিনী। এরপর দেশের উত্তর-পশ্চিমের সাগাইং অঞ্চলে বিমান হামলা চালানো হয়। এই অঞ্চলটি ভারতের মণিপুর এবং নাগাল্যান্ড লাগোয়া। আরও জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ড সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলিতেও বিদ্রোহীদের নিকেশ করতে হামলা চালায় মায়ানমারের সামরিক বাহিনী।এই ঘটনার নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসংঘ। দেশের এই বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতেও জুন্টাবাহিনীর হামলা চালিয়ে যাওয়া ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছে রাষ্ট্রসংঘ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আক্রমণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ।

 
রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুস এক সংবাদমাধ্যম বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরে যখন সবাই আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে , তখনও জুন্টার সেনাবাহিনী বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে। এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য!’  দেশের এই পরিস্থিতিতে জুন্টা সেনা সরকারের সমস্ত রকম সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে মনে করছেন তিনি। টমের অ্যান্ড্রুসের বক্তব্য, জুন্টা সেনার উপর যাদের প্রভাব রয়েছে, তাদের উচিত এই বিষয়ে জুন্টার উপর চাপ বাড়ানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হামলা যে গ্রহণযোগ্য নয়, তা জুন্টা সেনার কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে মনে করছেন তিনি।
 
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মায়ানমারের উত্তর দিকে শান প্রদেশের নাংচোয় শুক্রবার বোমারু বিমানের হানায় অন্ততপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের তিন ঘণ্টার মধ্যেই ওই হামলা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম মায়ানমারের সাগাইং প্রদেশের চ্যাং-ইউ শহরেও আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অঞ্চলটি জুন্টা সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে।
 
রবিবার সকালেই জানা যায়, জুন্টা-বিরোধী পিপল্‌স ডিফেন্স ফোর্স ৩০ মার্চ থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলবে বলে জানিয়েছে জুন্টা-বিরোধী বিদ্রোহী সরকার – ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’।শুক্রবারের পরও ভূমিকম্পের পর বেশ কিছু জোরালো ‘আফটারশক’ অনুভূত হয়েছে মায়ানমারে। সেনা সরকারের হিসাবে ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ১৬৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে জুন্টার অভ্যুত্থানের জেরে যে সকল রাজনীতিবিদরা গদিচ্যুত হয়েছিলেন, তাঁরা মিলে এই জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করেছিলেন। বর্তমানে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মায়ানমারে অবশ্য তাঁরা জুন্টা বিরোধিতার পথ ছেড়ে সাধারণ মানুষের জন্যে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন।
News Hub