বিদ্যুৎ ভৌমিক
নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রমের মধ্যে ডুবে থাকলে সাফল্য অনায়াসে তুলে আনা কোন ব্যাপারই নয়। তা হাতে নাতে প্রমাণ করে দেখিয়ে নজর কেড়েছে গোঘাটের মেয়ে সঞ্চিতা মন্ডল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে আয়োজিত ৬৮ তম জাতীয় স্কুল গেমসে যোগাসনে বালিকাদের অনূর্ধ্ব ১৭ দলগত বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে হুগলি জেলার গোঘাট-১ নং ব্লকের অধিন শাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বেলে বলরামপুর গ্রামের কিশোরী যোগাকন্যা শাওড়া ইউনিয়ন হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরতা সঞ্চিতা। তার এই সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ হুগলি (গ্রামীণ)পুলিশের উদ্যোগে ও গোঘাট থানার সুচারু ব্যবস্থাপনায় গত ২৭ মার্চ তারিখে গোঘাট থানায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সঞ্চিতাকে সম্বর্ধনা দিয়ে উৎসাহিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুগলি (গ্রামীণ)পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন ও আরামবাগের এস ডি পি ও সুপ্রভাত চক্রবর্তী মহোদয়।
সূত্রের খবর, সঞ্চিতার বাবা বিদেশে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যুক্ত। অভাবী সংসারে আর্থিক অনটন গোটা সংসারটাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সে কারণে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করা সঞ্চিতার যোগাসনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে পরিবারের সকলেই বেশ চিন্তিত। আরও জানা যায় যে, প্রাইমারি স্কুলে পড়াকালীন স্কুলের মাস্টারমশাইয়েরা সঞ্চিতাকে ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ দিতেন। সেখান থেকেই সঞ্চিতার মা মেয়েকে বালি ব্যায়াম সমিতিতে ভর্তি করে দেন। সেই থেকে অদ্যাবধি সেখানেই যোগাসনে তার প্রতিদিন অনুশীলন চলছে।
সঞ্চিতার মা জানান যে, ক্লাশ থ্রিতে পড়ার সময় থেকে সঞ্চিতার মধ্যে যোগাসনের প্রতি নিবিড় আগ্রহ দেখা যায়। সেই সময় থেকে সে যোগাসনে গভীর মনোযোগ সহকারে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে স্থানীয় মহলে সে ক্রীড়াচাতুর্যের গুণে নিজেকে মেলে ধরতে সমর্থ হয়েছে। গত বছরে বাঁকুড়া শহরে রাজ্য স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার আগে হুগলির চুঁচুড়ায় অনুষ্ঠিত জেলা স্কুল যোগাসন প্রতিযোগিতায় সে চতুর্থ স্থান পায়। এ ব্যাপারে গোঘাটের মেয়ে সঞ্চিতা জানায় যে, আগামী দিনে সে যোগাসনে আরও অভাবনীয় সাফল্য তুলে আনতে বদ্ধপরিকর। ইতিপূর্বে গোঘাট-১ নং পঞ্চায়েত সমিতি ও শাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যোগাসনে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সঞ্চিতাকে সম্বর্ধনা জানানো হয়। এবার রাজ্য স্কুল গেমসে বালিকাদের অনূর্ধ্ব ১৭ বিভাগে যোগাসনে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার সংবাদে উচ্ছ্বসিত হয়ে পুরশুড়া বিধানসভার বিধায়ক বিমান ঘোষ সঞ্চিতার বাড়িতে এসে সম্বর্ধনা দিয়ে গেছেন ও আগামী দিনে যোগাসনে এগিয়ে যাওয়ার পথে তাকে (সঞ্চিতাকে) সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে কার্পণ্য করবেন না বলে বিমানবাবু আশ্বস্ত করেছেন।
রাজ্য স্কুল গেমসে ও জাতীয় স্কুল গেমসে সাফল্যের কারণে উষ্ণ সম্বর্ধনা পেয়ে সঞ্চিতা স্বভাবতই খুশি। হুগলি (গ্রামীণ) সুপার তাকে যোগাসনে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ও আগামী দিনে সবরকমের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। এরকমভাবেই সঞ্চিতা ক্রীড়ামোদী আমজনতার অকৃপণ সহযোগিতা পাশে আবদ্ধ হয়ে যোগাসনকে সামনে রেখে দেশের মুকুটে নয়া পালক সংযোজিত করতে উন্মুখ। সেই সঙ্গে স্কুলের পড়াশুনাকে সমান্তরাল ভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর। তার স্বপ্ন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া। সঞ্চিতার প্রশিক্ষক দেবাশিস ঘোষাল ছাত্রীর সাফল্যের সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানালেন যে, সঞ্চিতা খুবই উদ্যমী। আগামী দিনে ও সেরার খেতাব পাবেই।