জাতীয় জুনিয়র ক্লাব টুর্নামেন্ট লিগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের হয়ে ইতিমধ্যে চার ম্যাচে ১২টি গোল করে রাজদীপ পাল সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে। কিছুদিন আগে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ইয়ুথ স্পোর্টস টুর্নামেন্টে রাজদীপ ১২ ম্যাচে ২৩টি গোল করেছে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়। রাজদীপ পাল ১২টি ম্যাচের মধ্যে নটা ম্যাচেই, সেরা হয়েছে। টুর্নামেন্টে ২৩টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পায়। সুব্রত কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টেও চলতি বছরে রাজদীপ প্রচুর গোল করেছে। অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় এলিট লিগে বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির তানভীর দের পর আরও একজন বাঙালি স্ট্রাইকার হিসেবে রাজদীপ পাল অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় লিগে নজর কেড়ে চলেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে সরকার পাড়ায় রাজদীপের নিজেদের বাড়ি আছে। ছোটবেলায় রাজদীপ রেলওয়ে স্কাউটিং দলের হয়ে অনেক মেডেল পেয়েছে। রেলের স্কাউন্টিংয়ের সদস্যদের রেলেতেই চাকরি সুবিধা আছে। চরিত্র গঠন ও শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে,পরিবার থেকে রাজদীপকে রেলের স্কাউটিং-এ ভর্তি করা হয়। স্কাউটিং দলের সদস্য হয়ে বিভিন্ন সময় অন্য রাজ্যে অনুষ্ঠানের জন্য যেতে হতো। ফুটবল পাগল রাজদীপের স্বাভাবিকভাবে এই স্কাউটিংয়ের প্রতি কোনো ভালোবাসা ছিল না। হালিশহর স্পোর্টিং ক্লাবের অরূপ কাকুর হাত ধরেই পাকাপাকিভাবে ফুটবলের দিকেই রাজদীপ মননিবেশ করে। হালিশহর স্পোর্টিং ক্লাব থেকে সোদপুরের ফ্যাশন জোনে রাজদীপ পালের প্রশিক্ষণের সুযোগ হয়। প্রাক্তন বাংলা রঞ্জি দলের উইকেটকিপার শিবনাথ সামন্তের ফ্যাশান জোনেই গত চার বছর ধরে রাজদীপ পালের ফুটবলের প্রশিক্ষণ চলছে। ফ্যাশন জোনের জুনিয়রদের কোচ সমর দেবের প্রশিক্ষণে রাজদীপ পাল রাজ্য অনূর্ধ্ব ১৫ লিগে গত মরশুমে অংশগ্রহণ করে। ফ্যাশন জোন গতবছর অনূর্ধ্ব ১৫ জাতীয় জুনিয়র লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ না পেয়ে, রাজদীপ পাল সহ ৭ জন ফুটবলারকে ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে রাজদীপ পাল ভালো খেললেও সকলের নজরে পড়েনি। যদিও বা মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে দুবার মুখোমুখি হয়ে সে, দুবারই সাদা কালো শিবিরের গোলের জালে বল জড়িয়ে দেয়। এবং তাদের বিরুদ্ধে দুটো ম্যাচে মোট তিনটি গোল করে।
এই মরশুমে রাজদীপ পালের হয়তো অনূর্ধ্ব ১৫, জাতীয় ক্লাব টুর্নামেন্টে কোন ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ ঘটতো না। মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস দলের প্রস্তুতিতে ফ্যাশন জোনের সঙ্গে একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলা হয়। সেই প্র্যাকটিস ম্যাচেই রাজদীপ পাল মোহনবাগান এসজির টিডি ও প্রাক্তন ফুটবলার তনুময় বসুর নজরে পড়ে যায়। এখন সেই রাজদীপ পাল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের সমর্থকদের নয়নের মনি হয়ে গেছে।
হালিশহর বাঘ মোড়ের রাজা ও গজার বাবা শংঙ্কর পাল রং-মিস্ত্রির কাজ করেন। মা বাড়িতে মহিলাদের পোশাক সেলাই করেন। সামান্য রোজগারে পরিবারের গজা অর্থাৎ রাজদীপ পাল বেবি লিগে খেলার সময় প্রচুর গোল করেই সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করে। রাজদীপের দাদা রাজা পালও ফুটবল খেলে। কলকাতা লিগে অ্যাডামাস ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে সে ফুটবল খেলছে।
রাজদীপের পরিবার বিশ্বাস করে, সে বড় ক্লাবের সিনিয়র দলেও একদিন সুযোগ করে নিতে পারবে। গতবছর জুনিয়র ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েও শেষ মুহূর্তে রাজদীপ বাদ পড়ে যায়। মোহনবাগান এসজির হয়ে জাতীয় লিগের এই টুর্নামেন্টে ফাইনাল রাউন্ডে খেলে। ভারতীয় দলের স্কাউটদের নজরে পড়াই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। ক্লাস নাইনের ছাত্র রাজদীপ পাল ফ্যাশন জোনের শিবনাথ সামন্তর অবদানের পাশাপাশি ফুটবলে তার মা’য়ের অনুপ্রেরণার কথা স্বীকার করে। লিওনেল মেসির বড় ছবি তার ঘরে টাঙানো আছে। ভারতীয় ফুটবলারদের মধ্যে সুনীল ছেত্রী তার অত্যন্ত প্রিয় ফুটবলার। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক হলেও রাজদীপ পাল বড় হয়ে ভারতবর্ষের যেকোন বড় দলে খেলবার স্বপ্নে নিজেকে তৈরি করতে চায়। কবে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজদীপ।