আইএসএল ফুটবলে ব্যর্থতার পরে কোচ অস্কার ব্রুজোকে রাখা হবে কিনা, তা এই মুহূর্তে বলা না গেলেও, ইস্টবেঙ্গলের কর্মকর্তারা নতুন কোচের সন্ধানে ময়দানে নেমে পড়েছেন। হয়তো এএফসি কাপের পরেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নতুন কোচ আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে কোচের দৌড়ে রয়েছেন বেশ কয়েকটি নাম। তার মধ্যে লোপেস হাবাস, হোসে মোলিনা, কার্লোস কুয়াদ্রাত, জোসেফ এবং সের্জিও লোবেরার নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দৌড়ে আরেকজনের নামও শোনা গিয়েছিল স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন। তবে এই দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন সের্জিও লোবেরা। তিনি বর্তমানে এফসি গোয়ার কোচ।
তাঁর চুক্তি এ বছরই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি মুম্বই সিটির প্রাক্তন কোচ ছিলেন। তবে, অনেক কর্মকর্তারাই বলছেন, সুপার কাপের আগে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে কোনও নতুন কোচ আসছেন না। তবে প্রথমে হাবাসের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লোবেরার যোগ্যতা এবং সফলতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। এমনকি ট্রফির বিচারে তিনি সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। তাঁর প্রশিক্ষণে সুপার কাপ, আইএসএল লিগ-শিল্ড, প্রিমিয়ার লিগ ও আইএসএল ট্রফি জেতার কৃতিত্ব রয়েছে। সেই কারণে সত্যিই যদি তিনি ইস্টবেঙ্গলের নতুন কোচ হিসেবে আসেন, সেক্ষেত্রে দলের চেহারা অনেকটাই বদলে যাবে। এদিকে আইএসএল ফুটবলে গত ম্যাচে বেঙ্গালুরুর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ১-১ গোলে খেলা অমীমাংসিত রাখে। জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনকি দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলকে ১০ জনে খেলতে হয়। যার ফলে খেলা চলাকালীন দলের অবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে যায়। আর তখনই প্রতিপক্ষ দল চাপ সৃষ্টি করে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগকে বিব্রত করতে থাকে।
কোচ অস্কার ব্রুজো মনে করেন, আইএসএল ফুটবলে প্রথম ছয়ের দলে নাম লেখানোর যে স্বপ্ন ইস্টবেঙ্গল শিবিরে উঁকি দিয়েছিল, তা নস্যাৎ হয়ে গেল দিমিত্রিয়াস দিয়ামান্তাকোস লাল কার্ড দেখায়। তিনি অনুভবই করলেন না দলের এই অবস্থায় কেন মাথা দিয়ে প্রতিপক্ষ দলের একজন ফুটবলারকে আঘাত করতে গেলেন? যার ফলে মেসি বউলির গোলে এগিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গলের জয় এল না। তারপরে খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০+৩ মিনিটে) নিশুকুমারের হাতে বক্সের মধ্যে একটি বল লেগে যাওয়ায় রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিতে দ্বিধা বোধ করেননি। সেই স্পট কিক থেকে সুনীল ছেত্রী গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে। কোচ অস্কার ব্রুজো বলেন, লড়াইয়ে আর কোনও মূল্যই থাকল না। ফুটবল খেলার অর্থ গোল। সেই গোল থেকে বঞ্চিত হতে হল বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়াতে। তাই এখন লক্ষ্য এএফসি কাপে ঘুরে দাঁড়ানো।