• facebook
  • twitter
Thursday, 3 April, 2025

ভালো দল গড়েও ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের ব্যর্থতা, সমর্থকরা হতাশ

টিমের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে দোষী ফুটবলারদের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের অক্ষমতা টিম ম্যানেজমেন্টকে কাটাতেই হবে।

ফাইল চিত্র

বিগত তিন বছর ধরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইনভেস্টর ও ক্লাব ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা সত্বেও, আইএসএলে ক্লাবের পারফরমেন্সের উন্নতি হয়নি। তিন মরশুমেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আইএসএলে নবম স্থান অর্জন করেছে। এই মরশুমে দেশি ও বিদেশি ভালো ভালো ফুটবলার টিমের স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু মরশুমের শুরু থেকেই টিমে শৃঙ্খলার অভাবে চূড়ান্ত সাফল্য আসেনি।

মরশুমের প্রথম টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপ এবং এএফসি চ্যাম্পিয়ন লিগ-টু’তে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। আইএসএলের শুরুতেই, প্রথম ছটা ম্যাচে পরাজয় হয়েছে। এই পরাজয়ে, গত মরশুমের সুপার কাপ জয়ী কোচ কার্লোস কুয়াদ্রাতকে পরিবর্তন করা হয়। প্রসঙ্গত বলা যায়, ইমামি গ্রুপ ইনভেস্টার হিসেবে ক্লাবের সাথে যুক্ত হওয়ার পরেই ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটানকে কোচ হিসাবে ক্লাবে নিযুক্ত করা হয়। স্টিফেন আইএসএলে ব্যর্থ হওয়ার পর, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু এফসি দলের কোচ কার্লোস কুয়াদ্রাত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের দায়িত্ব নেন। কুয়াদ্রাতের কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আইএসএলে ব্যর্থ হলেও, দীর্ঘ ১২ বছর পর কলিঙ্গ সুপার কাপে জয়ী হয়ে এএফসির ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

কোচ কুয়াদ্রাতের বিদায়ের পর, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে অস্কার ব্রুঁজকে কোচ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। কোচ হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, অস্কার ব্রুজোর প্রশিক্ষণে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আইএসএলে ও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রাথমিক পর্বে ভালোই খেলতে থাকে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের জোনাল পর্বে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়। এইসময় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পারফরমেন্সের নিরিখে আইএসএলে ভালো ফলের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখা দেয়। আইএসএলে যেমন সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা যায়নি, তেমনিই এএফসি চ্যাম্পিয়ান লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজয় বরণ করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ব্যর্থতা হিসেবে টিমের শৃঙ্খলার অভাবকেই প্রধানত দায়ী করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা ৫৯টা হলুদ কার্ড ও ১০টা লাল কার্ড দেখে ফেলেছে! এভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখার ফলে টিমের স্কোয়াডের ধারাবাহিকভাবে ক্ষতি হয়েছে। আইএসএলের প্রথম ম্যাচে যেমন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছে। ঠিক তেমনিভাবে আইএসএলের শেষ ম্যাচেও ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ফুটবল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টিমের ফুটবলাররা জোটের কারণে মাঠের বাইরে থেকেছে। কিছু ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বিপক্ষেও গেছে। কিন্তু টিমের শৃংখলার অভাবে অযাচিত কার্ড দেখার প্রবণতা, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পারফরমেন্সকে সবচাইতে বেশি ক্ষতি করেছে।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে বর্তমানের সুস্থির প্রশাসন আছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় ভালো ইনভেস্টর পাওয়া গেছে। ক্লাবের ফুটবল টিম গঠনে সাবেকি ক্লাব কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু টিমের সাফল্য এলোনা। বাংলার ফুটবলের উন্নতি স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী ক্লাবের পাশে দাঁড়ালেন। এরপরেও ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য না আসায় সদস্য সমর্থকেরা হতাশ হচ্ছেন। এই হতাশা থেকেই হয়তো একদিন চূড়ান্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হবে। প্রধানত প্রতিপক্ষ মোহনবাগান ক্লাবের বর্তমান সাফল্যের প্রেক্ষিতে এমন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়তো অমূলক নয়।

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরের ইস্টবেঙ্গল দলগঠন যথেষ্ট ভালো হয়েছিল। এবছরের দলের ঘাটতিগুলো নিশ্চয়ই পরের মরসুমের জন্য পূরণ করা হবে। দলে ভালো ভালো ফুটবলার যোগদান করবে। কিন্তু শক্তিশালী দল গঠন করাই শেষ কথা নয়। টিমের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে দোষী ফুটবলারদের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের অক্ষমতা টিম ম্যানেজমেন্টকে কাটাতেই হবে।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মতন ঐতিহ্যশালী ক্লাবের ক্ষেত্রে ফুটবলারদের এমন আচার আচরণ কিছুতেই মানা যায়না। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ভারতীয় ফুটবলের এখন নানাবিধ নেতিবাচক ঘটনা সামনে আসছে। ক্লাবের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে এখন থেকেই কঠোর মনোভাব নেওয়া উচিত।