বারাণসী, ১৪ মে: আজ, মঙ্গলবার বারাণসী লোকসভা কেন্দ্রে ঘটা করে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই নিয়ে তৃতীয়বার উত্তরপ্রদেশের মন্দির শহরে বিজেপির প্রার্থী হলেন নরেন্দ্র মোদী। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি দশাশ্বমেধ ঘাটে বৈদিক মন্ত্র জপ করে গঙ্গা আরতি সারেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। ছিলেন বারাণসীর পুরোহিত ও সাধুসন্তরা। এরপর তিনি কাল ভৈরব দর্শন করে জেলা শাসক দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন দপ্তরে কলেক্টরেটের কাছে সমস্ত নথি সহ মনোনয়নপত্র পেশ করেন।
এদিন মনোনয়নপত্র পেশের আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এই মনোনয়ন পেশের দিনক্ষণ হিসেবে জেলা শাসক ও রিটার্নিং অফিসার এস রাজালিঙ্গম একটি শুভ সময় নির্বাচন করেন। কাকতালীয়ভাবে আজ তিথি নক্ষত্র অনুসারে আজ দিনটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণভাবে খুবই শুভ। পাঁজি মতে জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার গঙ্গা সপ্তমী এবং নক্ষত্ররাজ পুষ্য, সেইসঙ্গে রবি যোগও বিদ্যমান। ফলে সব মিলিয়ে আজ গ্রহের একটি বিশেষ অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। আধ্যাত্মিক গুরুরা বিশ্বাস করেন, এমন দিনে যে কোনও কাজ করলে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছনো যায়। এদিন মনোনয়নপত্র পেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বারাণসীর পণ্ডিত গঙ্গেশ্বর শাস্ত্রী দ্রাবিড়। যিনি মনোনয়নে প্রার্থী মোদির একজন প্রস্তাবক ছিলেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র প্রক্রিয়া তদারকির জন্য জেলা শাসক দপ্তরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
মনোনয়নপত্র পেশের সময় মোদী সামনের সারিতে যে চেয়ারে বসেন, তাঁর পাশের চেয়ারেই ছিলেন পণ্ডিত গঙ্গেশ্বর শাস্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পিছনের চেয়ারে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বারাণসীর বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রিটার্নিং অফিসারের সামনে শপথ বাক্য পাঠ করে শোনান। পণ্ডিত গঙ্গেশ্বর শাস্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য প্রস্তাবকের মধ্যে ছিলেন জনসঙ্ঘ কর্মী বৈজনাথ প্যাটেল, বিজেপি কর্মী লালচাঁদ কুশওয়াহা এবং বিজেপি-র বারাণসী জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সোনকার।
প্রসঙ্গত আগামী ১ জুন সপ্তম দফায় বারাণসী লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। আজই ছিল সেই শেষ দফা লোকসভা ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। সেজন্য আজ গঙ্গা সপ্তমীতে মা গঙ্গাকে প্রণাম করতে দশাশ্বমেধ ঘাটে যান মোদী। এরপর কাল ভৈরব মন্দিরে প্রবেশ করেন। কালেক্টরেটের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তিনি কাশি কোতোয়াল কাল ভৈরবের থেকে আশীর্বাদ চেয়ে নেন। কাল ভৈরব দর্শনের আগে এক্স হ্যান্ডেলে মোদী পোস্ট করেন,”কাশির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অতুলনীয়। অন্যরকম এক আনন্দের। যা আমি ভাষায় প্রকাশ করে বোঝাতে পারব না।”
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী রুদ্রাক্ষ সভাঘরে এনডিএ-এর একটি বৈঠকে সামিল হন। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ এনডিএ-এর শরিক দলের নেতা ও মন্ত্রীরা হাজির ছিলেন। এনডিএ পরিচালিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও সেখানে হাজির হন।
উল্লেখ্য, এবার বারাণসী কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন কংগ্রেসের অজয় রাই, বহুজন সমাজবাদী পার্টির আতহার আজম লারি। গত ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী বারাণসীতে ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতলেও ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান আরও বাড়ে। গতবার তিনি ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন। গতবার মোদী ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৬৪ ভোট পেলেও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টির শালিনী যাদব পেয়েছিলেন মাত্র ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৫৯ ভোট। আর কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রাই পেয়েছিলেন মাত্র ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৪৮টি ভোট।