একটা গল্প বলি
রুচিরা মুখোপাধ্যায় দাস
শোনো একটা গল্প বলি—
এক যে রাজা এক যে রানি
মন্ত্রী-তন্ত্রী সেনাপতি
পুরনো সব কথাকলি।
রূপকথাদের কথার ভিড়ে
লালকমল আর নীলকমলে
অনেক তো ভাই এলেম ঘুরে
সঙ্গে নিয়ে ব্যাঙ্গমিরে।
আজ বলবো তাদের কথা,
যাদের জন্যই প্রাণে বাঁচা
বিশ্ব জুড়ে দূষণ রোখা
যাদের শুধুই নীরবতা।
যার জন্য কাঁদলে আকাশ
তেষ্টা মেটায় ঝমঝমাঝম্
তার জন্যই নিচ্ছি যে শ্বাস
গাছ ছাড়া আর, কে আর সে জন?
ঋতুরাজ
অরুণ গুপ্ত
বসন্তের মিঠে বাতাস
সঙ্গে ফুলের সুগন্ধ
মনের জানলা দিই খুলে
তাই জীবন জুড়ে ছন্দ।
ইচ্ছে হয় বেড়াই ঘুরে
মাঠে ঘাটে পাহাড়ে
জঙ্গল যে ডাকে আমায়
এড়ানো তা যায় না রে।
ঋতুরাজের মস্ত গুণ
মনটা করে চনমনে
চৈত্র তাড়া না দিলে যে
থাকত সে আপনমনে।
ঝিলের জলে বক
সুনীল আদক
ঝিলের জলে চুপটি করে
দাঁড়িয়ে বকমামা,
লম্বা গলা হালকা হাসি
গায়ে সাদা জামা
দিনের আলো ফুরিয়ে আসে
তবুও সে যে দাঁড়িয়ে,
বহু কষ্টে ঝপাং করে
ধরল মাছ ঝাঁপিয়ে।
মাছটি ধরে মহানন্দে
পেট পুরে সে খায়,
ধৈর্য ধরে থাকলে পরে
সফল হওয়া যায়।
ছোট্ট রু
তন্ময় ধর
ছোট্ট রু কি হরিণরঙের রূপকথা!
ঝুমকো ফুলের আলোয় ঢাকা ঘুমলতা!
তারার দেশে ছোট্ট মেয়ে, খেলছে ও
আকাশগাঙের আলোয় যে পা ফেলছে ও
দুষ্টুমিঠেল কাজলচোখের স্বপ্নকে
আঁকছে যে ও, ডাকছে যে ও ঘুমচোখে
ওর আঙুলের আর দু’চোখের রঙ টেনে
আকাশনদীর রামধনু যায় হার মেনে
আলোর পাতায় শব্দরঙিন ফুল এঁকে
নতুন দিনের কথা আনে ও-ই ডেকে।