আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন মামলার শুনানি এবার থেকে কলকাতা হাই কোর্টে হবে বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সকালে এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। শুনানিতে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবার আবেদনকে মান্যতা দেয় শীর্ষ আদালত। নির্যাতিতার মা-বাবার আবেদন ছিল, সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বারবার দিল্লি যাওয়াতে সমস্যা হওয়ায় তাঁদের মামলার শুনানি কলকাতা হাই কোর্টে হলে তাতে অংশ নেওয়া অনেক সহজ হবে। সোমবার আর জি কর মামলা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। তখন বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিবারের আইনজীবী করুণা নন্দী। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানির অনুমতি দেয়। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।
শীর্ষ আদালত সোমবার জানায়, এবার মামলা শুনতে পারবে হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ। এদিকে সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বর্ষীয়ান জয়মাল্য বাগচী। প্রথম দিনই আরজি কর মামলায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে যোগ দিয়েছেন তিনি। মামলার শুনানির সময়ও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিচারপতি বাগচী। সোমবার পরিবারের তরফে আইনজীবী করুণা নন্দী নিহত চিকিসকের মা-বাবার আবেদন তুলে ধরেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। আর তাতেই সাড়া দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায় এবার এই মামলার শুনানি হতে পারবে হাই কোর্টে।
তাঁদের মেয়ের প্রতি যে চরম অন্যায় হয়েছে তাতে সিবিআই-এর তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার মা-বাবা। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, সিবিআই তদন্তে অনে্ক রহস্যের সমাধান হয়নি।তাই অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। এর পাশাপাশি, মূল অপরাধী সঞ্জয় ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে তদন্তের আওতায় আনারও দাবি রয়েছে তাঁদের। এছাড়াও একাধিক দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলা দায়ের করে অভয়ার পরিবার। কিন্তু বিচারপতি ঘোষ জানান, এই সংক্রান্ত একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই শীর্ষ আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি এই মামলা শুনতে পারবেন না। এবার তাতেই সায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সিঙ্গল বেঞ্চ মামলা শুনতে পারবে বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বস্তি মিলেছে অভয়ার পরিবারের। এদিন সুপ্রিম কোর্টে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমাদের মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায় বিচার চাই, এই বিচারের জন্য আমাদের যেন আর দোরে দোরে ঘুরতে না হয়।’
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। সুপ্রিম কোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয়। একই সময়ে, শিয়ালদহ আদালতে আরজি করের মূল মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আদালত দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে, নিম্ন আদালতের এই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। অনেকে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। কেন আরজি করের ঘটনার গুরুত্বকে ‘বিরলতম’ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি সেই প্রশ্নও ওঠে।
এরপরই কলকাতা হাইকোর্টে নতুন করে তদন্ত চেয়ে আবেদন করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন হওয়ার তা প্রাথমিকভাবে শুনতে চায়নি হাইকোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর সেই শুনানিতে আর বাধা রইল না।