দত্তপুকুরে হজরত লস্কর খুনের ঘটনার ১৫ দিন পর উদ্ধার হল তাঁর কাটা মুন্ডু। মঙ্গলবার বামনগাছি স্টেশনসংলগ্ন এক ডোবা থেকে কাটা মুন্ডুটি পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি মূল অভিযুক্ত জলিলকে জম্মু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরই একে একে সামনে আসছে খুনের কারণ। চুরি করা সোনার ভাগ নিয়ে ঝামেলার পাশাপাশি উঠে এসেছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তত্ত্বও।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের ছোটো জাগুলিয়ার মালিয়াকুর বাজিতপুর এলাকার একটি ফাঁকা জমি থেকে হজরত লস্কর নামে এক যুবকের মুন্ডুহীন দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। পরে মৃতদেহের হাতের ট্যাটু দেখে তাঁর পরিচয় জানা যায়। এই ঘটনায় প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় হজরতের মামাতো ভাই ওবায়দুল গাজি ও তাঁর স্ত্রী পূজা দাসকে। পরে মূল অভিযুক্ত জলিলের স্ত্রী সুফিয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি উত্তর ভারতের জম্মু থেকে মূল অভিযুক্ত জলিলকে গ্রেপ্তার করে বারাসত থানার পুলিশ। টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর হজরতকে খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ধৃতরা।
মঙ্গলবার সকালে ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের দাবি, হজরতকে খুনের পর তাঁর মুন্ডুটি কেটে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি ডোবায় ফেলে দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সূত্র ধরেই বামনগাছি স্টেশন সংলগ্ন ওই ডোবায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় হজরতের কাটা মুন্ডু। এবার মৃতের মোবাইল ফোনটির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
জেরায় মূল অভিযুক্ত জলিল জানিয়েছে, মৃত হজরত লস্কর, ওবায়দুল গাজি এবং জলিলরা পেশাদার চোর ছিলেন। সম্প্রতি সকলে মিলে প্রায় ৪০০ গ্রাম সোনা চুরি করেন। কিন্তু চুরির সামগ্রীর ভাগ নিয়ে ওই তিনজনের মধ্যে ঝামেলা হয়। সোনার ভাগ নিয়ে হজরত বাকি সহযোগীদের ঠকিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন জলিল। যদিও তার আগে থেকে হজরতের উপর রাগ জলিলদের। ধৃত জানিয়েছেন, এ রাজ্যে চুরির পর কয়েকদিনের জন্য বাংলাদেশে গা-ঢাকা দিতেন তাঁরা। এখানে সব মিটে গেলে ফের ফিরে আসতেন। বাংলাদেশে পালানোর জন্য তাঁদের এক যুবক সাহায্য করতেন। সেই যুবক ‘বিএসএফ’ নামে পরিচিত ছিলেন। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল চুরির কারবার। কিন্তু সম্প্রতি উত্তরপাড়ায় একটি চুরির ঘটনার পর সহযোগী ‘বিএসএফ’কে এ রাজ্যে ডেকে এনে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন হজরত। এরপরই সহযোগীদের রাগ তাঁর উপর গিয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, আরও অনেক ঘটনায় জলিলদের রাগ ছিল হজরতের উপর।
এছাড়াও খুনের ঘটনার পিছনে আরও একটি বড় কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, জলিলের স্ত্রী সুফিয়ার সঙ্গে নিহত হজরতের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। নিয়মিত জলিলের বাড়িতে যাতায়াতও করতেন হজরত। এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে গিয়েছিলেন জলিল। হজরতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীয়ের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি জলিল। পরে সুফিয়াও সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হজরত তা মেনে নেননি। অভিযোগ, সুফিয়ার উপর যৌন নির্যাতন চালাতেন হজরত। এরপর স্বামী–স্ত্রী দুইজনে মিলে হজরতকে খুনের পরিকল্পনা করেন। সুফিয়ার উপর অত্যাচার চালাতেন বলেই খুনের পর হজরতের যৌনাঙ্গ কেটে দিয়েছিলেন জলিল। খুনের ঘটনার প্রমাণ লোপাটের পিছনে সুফিয়ার হাত ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।