• facebook
  • twitter
Friday, 4 April, 2025

পাথরপ্রতিমায় মৃত বেড়ে ৮, আটক ১

সুপ্রতিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে কারখানা ছিল। কিন্তু বাড়িতেই বাজি তৈরির সরঞ্জাম মজুত রাখা ছিল। সেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

নিজস্ব গ্রাফিক্স

পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাটের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের জেরে একই পরিবারের আটজন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের বড় ছেলে চন্দ্রকান্ত বণিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে আচমকাই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢোলাহাট থানা এলাকার বণিক বাড়ি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির একাংশ উড়ে যায়, ভেঙে পড়ে দেওয়াল। পুলিশের অনুমান, বাড়িতে মজুত থাকা বাজির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করতে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার রাতে বিস্ফোরণের জেরে বিকট শব্দ হয় ঢোলাহাট এলাকায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা যায়। বাড়ির জিনিসপত্র ছিটকে পড়ে পাশের মাঠে। উড়ে যায় জানলার গ্রিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রথমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর মজুত রাখা বাজিতে আগুন লাগে। অন্য এক অংশের বাসিন্দার দাবি, প্রথমে কোনওভাবে বাজিতে আগুন লাগে। তারপর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। পুলিশও আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। তবে পর পর বাজি বিস্ফোরণের ঘটনার পিছনে মানুষের সচেতনতার অভাব ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকেই দায়ী করেছেন এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার।

সুপ্রতিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে কারখানা ছিল। কিন্তু বাড়িতেই বাজি তৈরির সরঞ্জাম মজুত রাখা ছিল। সেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ১০ বছর ধরে এই কারখানা চলছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নজরদারি করা পুলিশের পক্ষে কঠিক কাজ। মানুষ সচেতন না হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো মুশকিল। তবে বাজি বিস্ফোরণ রুখতে পুলিশ প্রশাসনের তরফে যতটা সম্ভব পদক্ষেপ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামনেই বাসন্তীপুজো। এই সময় বিক্রির জন্য বণিক বাড়িতে বেআইনিভাবে বাজি মজুত করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বিধায়ক সমীর জানা জানিয়েছিলেন, এই পরিবারটির বাজি তৈরির লাইসেন্স ছিল। কিন্তু পরে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করে, বণিক পরিবারের সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স ছিল। বাজি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছিল না। তিন বছর আগে বেআইনি বাজি তৈরির অভিযোগে বণিক পরিবারের এক ছেলে চন্দ্রকান্ত বণিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ছাড়া পেয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও জেলা প্রশাসন তা দেয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করছিল বণিক পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার রাতে ঢোলাঘাটে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলেই জীবন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের সাতজনের। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সর্বগ্রাসী আগুনের বলি হয়েছে দুই সদ্যোজাতসহ চার শিশু। বাজি কারখানার মালিক দুই ভাই চন্দ্রকান্ত বণিক ও তুষার বণিকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। ইতিমধ্যেই চন্দ্রকান্তকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত আট জন সদস্যেরই মৃত্যু হয়েছে।