উত্তর-পূর্ব ভারত ও গোয়ার পর এবার দাক্ষিণাত্যে সংগঠন বিস্তারে আগ্রহী তৃণমূল কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনি ও রবিবার দু’দিন ব্যাপী কেরলে বিশেষ প্রচারাভিযানের নামল বাংলার শাসকদল। নেতৃত্বে রয়েছেন কেরল তৃণমূলের আহ্বায়ক পিভি আনোয়ার, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন এবং লোকসভার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শনিবার কেরলের কোঝিকোড়ে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ দলীয় কর্মসূচি। সেখানে এদিন উপস্থিত হন ডেরেক ও’ ব্রায়েন থেকে মহুয়া। এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তৃণমূলের এই দুই সাংসদ কেরলের নানা সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও তাঁদের প্রতিনিধি–সহ সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে তাঁদের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করেন। আদতে এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কেরলের প্রধান বিরোধী দলের জায়গা নিতে চায় তৃণমূল।
এদিন কেরলে পৌঁছে কোদাপ্পানাক্কাল পরিবারের ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রচারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার স্বীকৃতি জানিয়ে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের কেরল রাজ্য সভাপতি সাইয়েদ সাদিক আলি শিহাব থানগালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডেরেক ও’ ব্রায়েনরা। এই আলোচনায় কেরলের প্রবৃদ্ধির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেই আলোচিত হয়। এখানেই শেষ নয়, ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ রবিবার কেরলের মঞ্জেরির পিভিআর মেট্রো ভিলেজে একটি বিশেষ নেতৃত্ব সম্মেলনের আয়োজনও করা হয়েছে। এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসাবে থাকতে পারেন ডেরেক, মহুয়া ও আনোয়ার। দক্ষিণে সংগঠনের ভীত মজবুত করতে দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে আনোয়ারের সহযোদ্ধা হয়েছেন ডেরেক ও মহুয়া।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে বাংলার মসনদ দখল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এরপর গোয়া, অসম ও ত্রিপুরায় সংগঠন তৈরি করেছে দল। অসমে সংগঠনের ভীত মজবুত করতে সম্প্রতি অসম প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কোর কমিটি, রাজ্য কমিটি এবং শাখা সংগঠনের প্রধানদের নামও ঘোষণা করেছে দল। পাশাপাশি মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছে তৃণমূল। এবার দক্ষিণে সংগঠন বিস্তারে বদ্ধপরিকর দলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দলনেত্রীর এই অভিপ্রায়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন পিভি আনোয়ার। সম্প্রতি কেরলের প্রাক্তন সিপিএম নেতা পিভি আনোয়ার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করে বাম শাসিত কেরলের একমাত্র তৃণমূল বিধায়ক হয়েছেন। তৃণমূল শাসিত বাংলায় বামেরা শূন্য হলেও বামশাসিত কেরলে আশার আলো দেখছে ঘাসফুল। আজকের নেতৃত্ব সম্মেলন থেকে দক্ষিণে দলীয় সংগঠন মজবুত করতে কি বিশেষ বার্তা দেন ডেরেক, মহুয়া থেকে আনোয়ার, এখন সেটিই দেখার বিষয়।