• facebook
  • twitter
Friday, 28 March, 2025

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মহত্যা রুখতে টাস্ক ফোর্স গড়ল সুপ্রিম কোর্ট

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টেরই প্রাক্তন বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভট্টের নেতৃত্বে ওই টাস্ক ফোর্স আগামী চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে।

ফাইল চিত্র

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেড়ে চলেছে যৌন হেনস্থা, র‌্যাগিং এবং সেই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনা। পড়ুয়াদের উপর ভয়ঙ্কর পড়া শুনোর চাপ ছাড়াও নানারকম বৈষম্যের কারণে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন পড়ুয়ারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রমাগত এই ধরণের ঘটনা বেড়ে চলেছে।কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের ঘটনা বন্ধ করতে এবার টাস্ক ফোর্স গড়ল দেশের শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টেরই প্রাক্তন বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভট্টের নেতৃত্বে ওই টাস্ক ফোর্স আগামী চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টে কোনও পড়ুয়ার মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে এই ধরণের ঘটনা ভবিষ্যতে বন্ধ করা যেতে পারে সেই বিষয়ে প্রস্তাব দেবে। এই টাস্ক ফোর্সে উচ্চশিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং আইন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, গত দুই মাসে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যতগুলি পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তার অধিকাংশই যৌন হেনস্থা, র‌্যাগিং এবং জাতি বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত। বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ গত ২ মাসে কলেজ-হস্টেলে একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। এগুলো আর কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটাই আমাদের আরও বেশি উদ্বিগ্ন করছে।’ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনা সমাজে খারাপ প্রভাব ফেলে। প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

২০২৩ সালে আইআইটি দিল্লির হস্টেলে দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সামনে এসেছে। পুলিশ তদন্তও শুরু করেছিল।ওই ঘটনায় তদন্ত করে কেসের চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে পেশও করে আদালতে। এরপর মামলার নিষ্পত্তিও হয়ে যায়। কিন্তু ওই আত্মহত্যার ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতে ফের মামলা দায়ের করেন ওই দুই আত্মঘাতী পড়ুয়ার পরিবার। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, ক্যাম্পাসে তাঁদের সন্তানদের উপর হেনস্থার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই আদালত পুলিশের আগের তদন্তকে ভুল বলে উল্লেখ করে জানায়, ‘যদি অভিভাবকদের মনে হয় তাঁদের সন্তানরা হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তাহলে পুলিশের দায়িত্ব ছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা। শুধুমাত্র প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মামলা বন্ধ করে দেওয়া যথেষ্ট নয়।’

আদালত আরও বলেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শুধুমাত্র মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হয়, কিন্তু সেটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, টাস্ক ফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে র‍্যাগিং, বৈষম্য ও হেনস্থার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

News Hub