• facebook
  • twitter
Friday, 4 April, 2025

ব্যাঙ্ককে বহুতল ধসের ঘটনায় কঠোর তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মায়ানমারের ধ্বংসলীলার একাধিক ছবি তুলেছে ইসরো। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে, ভূমিকম্পের আগে কী ছিল মায়ানমার, আর ভূমিকম্পের পরে কী অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

জোরালো ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে মায়ানমার। ধ্বংসাবশেষ সরালেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক লাশ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭১৯ জনের।  মঙ্গলবার মায়ানমারের সেনা নেতা মিন আং এইচলাইং জানিয়েছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পে আহত হয়েছে ৪,৫২১ জন। নিখোঁজ ৪৪১ জন। সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মান্দালয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে শিশুদের একটি স্কুল। শুক্রবার দুপুরে যখন কম্পন হয়, তখন স্কুলটিতে পড়াশুনো করছিল শিশুরা। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০টি শিশু এবং ২ জন শিক্ষকের। 

 এদিকে ভূমিকম্পের সময়ে ব্যাঙ্ককে ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি বহুতল। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে একটি ৩০তলা নির্মীয়মাণ ভবন ভেঙে পড়ে। ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডে যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তার বেশিরভাগই ঘটেছে এই নির্মীয়মান বহুতলের নীচে চাপা পড়ে। কেন এই ভবনটি ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড প্রশাসন।এই ভেঙে পড়ার ঘটনায় জড়িত প্রতিটি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পি শিনাওয়াত্রা।  
 
এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়তে পারে থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতেও, এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সে দেশের উপ-অর্থমন্ত্রী জুলাপুন আমর্নভিভাত জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে সাময়িক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে দেশের অর্থনীতিতে। শুক্রবার ওই নির্মীয়মাণ ভবনটি ভেঙে পড়ার পর থেকে এই ধরনের বহুতল তৈরির নকশা, সুরক্ষাবিধি কতটা মেনে চলা হয় সেসব প্রশ্ন উঠেছে। যে সংস্থা ওই নির্মাণের দায়িত্বে ছিল, তাদের শেয়ারদর নেমে গিয়েছে ২৭ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের মন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটিকে ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, আগামী দিনে এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা-ও বিবেচনা করে দেখা হবে। 
 
ভূমিকম্পের পরে সব দেশের কাছে ত্রাণ পাঠানোর আবেদন জানিয়েছিল মায়ানমারের জুন্টা সরকার। ভারত-সহ বহু দেশ ত্রাণ পাঠিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকায় ত্রাণ পাঠাতে বাধা দিচ্ছে জুন্টা সরকার।অভুক্ত অবস্থায় রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। উদ্ধারকারী সংগঠনগুলির দাবি, ভূমিকম্পে মৃতের সঠিক সংখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বহু জায়গায় এখনও পৌঁছতেই পারেননি উদ্ধারকাজে নিযুক্ত কর্মীরা।
 
শুক্রবারের ওই ভূমিকম্পে কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৭। ভেঙে গিয়েছে হাজার হাজার বাড়ি, প্রাচীন সৌধ, মসজিদ, বৌদ্ধ প্যাগোডা। ফাটল ধরেছে রাস্তা, সেতুতে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মান্দালয়ের কাছে। মায়ানমারে ওই শহরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়েছে, মান্দালয়ের বহু এলাকায় এখনও বিশুদ্ধ পানীয় জল নেই, নেই খাবার। রাস্তাই এখন ঘরবাড়ি হয়ে উঠেছে অসহায় মানুষগুলির। যাঁদের ঘরবাড়ি অক্ষত রয়েছে তাঁরাও এখন আতঙ্কে খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি-র এক সদস্য। ওই কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, মায়ানমারের অনেক জায়গাতেই ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারছেন না তাদের কর্মীরা। কারণ বাধা দিচ্ছে জুন্টা সরকার। 

অন্যদিকে থেকে মায়ানমারের ধ্বংসলীলার একাধিক ছবি তুলেছে ইসরো। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে, ভূমিকম্পের আগে কী ছিল মায়ানমার, আর ভূমিকম্পের পরে কী অবস্থা দাঁড়িয়েছে। মায়ানমারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ইরাবতী ব্রিজ ধ্বংসের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইসরোর ছবিতে দেখানো হয়েছে এই ভূমিকম্পের জেরে গতিপথ বদলে গিয়েছে ইরাবতী নদীর। গুঁড়িয়ে গিয়েছে স্কাই ভিলা, ফায়ানি প্যাগোডা, মহামুনি প্যাগোডা, আনন্দ প্যাগোডা, মান্দালয় বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ইন ওয়া শহরের কাছে ইরাবতী নদীর উপর ঐতিহাসিক আভা সেতু ভেঙে পড়েছে।

ভূবিজ্ঞানী জেস ফিনিক্স মায়ানমারকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠের নিচে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ভারতীয় প্লেটের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। তাই আগামী কয়েক মাস ধরে চলতেই থাকবে ‘আফটারশক’।

এদি্কে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমারে দ্বিতীয় দফার ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। অতিরিক্ত ৫০ টন ত্রাণ নিয়ে মায়ানমারের পথে আরও ৩টি জাহাজ রওনা হয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলবার ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে পাঠানো হয় ত্রাণসামগ্রী।