জোরালো ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে মায়ানমার। ধ্বংসাবশেষ সরালেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক লাশ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭১৯ জনের। মঙ্গলবার মায়ানমারের সেনা নেতা মিন আং এইচলাইং জানিয়েছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পে আহত হয়েছে ৪,৫২১ জন। নিখোঁজ ৪৪১ জন। সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মান্দালয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে শিশুদের একটি স্কুল। শুক্রবার দুপুরে যখন কম্পন হয়, তখন স্কুলটিতে পড়াশুনো করছিল শিশুরা। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০টি শিশু এবং ২ জন শিক্ষকের।
অন্যদিকে থেকে মায়ানমারের ধ্বংসলীলার একাধিক ছবি তুলেছে ইসরো। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে, ভূমিকম্পের আগে কী ছিল মায়ানমার, আর ভূমিকম্পের পরে কী অবস্থা দাঁড়িয়েছে। মায়ানমারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ইরাবতী ব্রিজ ধ্বংসের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইসরোর ছবিতে দেখানো হয়েছে এই ভূমিকম্পের জেরে গতিপথ বদলে গিয়েছে ইরাবতী নদীর। গুঁড়িয়ে গিয়েছে স্কাই ভিলা, ফায়ানি প্যাগোডা, মহামুনি প্যাগোডা, আনন্দ প্যাগোডা, মান্দালয় বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ইন ওয়া শহরের কাছে ইরাবতী নদীর উপর ঐতিহাসিক আভা সেতু ভেঙে পড়েছে।
ভূবিজ্ঞানী জেস ফিনিক্স মায়ানমারকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠের নিচে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ভারতীয় প্লেটের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। তাই আগামী কয়েক মাস ধরে চলতেই থাকবে ‘আফটারশক’।
এদি্কে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমারে দ্বিতীয় দফার ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। অতিরিক্ত ৫০ টন ত্রাণ নিয়ে মায়ানমারের পথে আরও ৩টি জাহাজ রওনা হয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলবার ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে পাঠানো হয় ত্রাণসামগ্রী।