• facebook
  • twitter
Friday, 4 April, 2025

মন্দির-মসজিদ নিয়ে ফের বক্তব্য রাখলেন মোহন ভাগবত

মন্দির-মসজিদ বিরোধ নিয়ে ফের বক্তব্য রাখলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। রাম মন্দির নির্মাণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। দেশের বিভিন্ন মসজিদের সমীক্ষার দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে ছোট-বড় হিন্দুপন্থী সংগঠন, হিন্দু নেতা বা ব্যক্তি। উদ্দেশ্য, সেই মসজিদের জায়গায় কোনও যুগে মন্দির ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা। এর জেরে সম্প্রতি দেশের নানা প্রান্তে অশান্তি, সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়েছে। এই ধরণের আচরণের তীব্র ধিক্কার জানান মোহন ভাগবত।

ফাইল চিত্র

মন্দির-মসজিদ বিরোধ নিয়ে ফের বক্তব্য রাখলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। রাম মন্দির নির্মাণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। দেশের বিভিন্ন মসজিদের সমীক্ষার দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে ছোট-বড় হিন্দুপন্থী সংগঠন, হিন্দু নেতা বা ব্যক্তি। উদ্দেশ্য, সেই মসজিদের জায়গায় কোনও যুগে মন্দির ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা। এর জেরে সম্প্রতি দেশের নানা প্রান্তে অশান্তি, সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়েছে। এই ধরণের আচরণের তীব্র ধিক্কার জানান মোহন ভাগবত। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভাগবত জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের হিন্দুত্ববাদ প্রমাণের জন্য এসব টেনে আনছেন। তিনি বলেন, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পর থেকে কিছু মানুষ মনে করেন যে তাঁরা এই ধরনের ইস্যু তুলে হিন্দু নেতা হতে পারেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, এই ধরনের ঘটনা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

 
মোহন ভাগবত বলেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।তাঁর কথায়, ‘ভারতের সেই নজির গড়ে তোলা উচিত, যেখানে বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারে।’ বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুণেয় আয়োজিত ‘বিশ্বগুরু ভারত’ কর্মসূচির মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন মোহন ভাগবত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের একাংশের তরফে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের জামা মসজিদ, রাজস্থানের আজমের শরিফ নিয়ে সমীক্ষার দাবি তোলা হয়। সেই নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে।
 
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান বলেন,’ রামকৃষ্ণ মিশনে বড়দিন উদযাপন করা হয়। শুধু  আমরা এটা করতে পারি কারণ আমরা হিন্দু। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির আবহে বসবাস করছি। আমরা যদি বিশ্বের সামনে সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরতে চাই তবে আমাদের এর একটি মডেল তৈরী করতে হবে। ‘ এই বিষয়ে কথা বলার সময়ে  ভাগবত স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, অযোধ্যার রাম মন্দিরের বিষয়টি ছিল স্বতন্ত্র। তার সঙ্গে অন্যান্য ঘটনা গুলিয়ে ফেললে চলবে না। ভাগবত বলেন, ‘রাম মন্দির একটা বিশ্বাস ও আস্থার বিষয় ছিল। হিন্দুদের মনে হয়েছিল, এটা অবশ্যই গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু, যেভাবে নতুন বেশ কিছু স্থানে একই ধরনের ইস্যু তুলে ধরা হচ্ছে, এবং তার ফলে যে ঘৃণা এবং শত্রুতার বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
 
সমাজে এই ধরনের বিবাদ মেটানোর সবথেকে ভালো উপায় হল প্রাচীন সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া, এমনটাই মনে করেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, ‘চরমপন্থা, আগ্রাসী মনোভাব, জোর জবরদস্তি  এবং অন্য ধর্মকে অপমান করা আমাদের সংস্কৃতি নয়।’  তিনি আরও  বলেন, ‘এখানে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সকলেই এক। আমাদের দেশে যেন প্রত্যেকেই তাঁর ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে ঈশ্বরের উপাসনা করার সুযোগ পান।’
 
মোহন ভাগবতের কথায়,  ‘এখন সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলে। এই ব্যবস্থায় জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, যারা দেশের সরকার চালায়। আধিপত্যের দিন চলে গেছে।’