• facebook
  • twitter
Thursday, 3 April, 2025

কুমারীত্ব পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা অসাংবিধানিক, মর্যাদা লঙ্ঘন করে

রায় ছত্তিশগড় হাইকোর্টের

প্রতীকী চিত্র

কোনও মহিলাকে কুমারীত্ব পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা যায় না। এটি সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষার মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে। এমনই পর্যবেক্ষণ ছত্তিশগড় হাইকোর্টের। উল্লেখ্য, স্ত্রীর কুমারীত্ব পরীক্ষার দাবিতে এক ব্যক্তি ফৌজদারি আবেদন করেছিলেন উচ্চ আদালতে। সেই আবেদনের জবাবে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার বর্মা বলেন, কুমারীত্ব পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচারের মূল নীতি এবং তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও মর্যাদার পরিপন্থী।                                                                                                                                                                                                            স্ত্রীয়ের সঙ্গে আগে অন্য কোনও পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক ছিল, এমন অভিযোগ করে স্ত্রীয়ের কুমারীত্ব পরীক্ষার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। ওই মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার বর্মার পর্যবেক্ষণ, স্ত্রীকে তাঁর কুমারীত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা যাবে না। এমন পরীক্ষার অনুমতিও দেবে না বলে জানায় উচ্চ আদালত। স্ত্রীর কুমারীত্ব পরীক্ষা করাতে চেয়ে আবেদনকারীর দাবি ‘অসাংবিধানিক’ বলেও উল্লেখ করে হাইকোর্ট। কারণ এটি সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীন নারীর মর্যাদার অধিকার লঙ্ঘন করে। বিচারপতি বর্মা বলেন, ‘ভারতের সংবিধানের ২১তম অনুচ্ছেদ কেবল জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারই দেয়নি, বরং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারও সুনিশ্চিত করেছে, যা বিশেষভাবে নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তাই তা কোনওভাবেই খর্ব করা যায় না।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিয়ে করেছিলেন সেই ব্যক্তি। হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়।  এরপর স্ত্রী তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন যে তাঁর স্বামী পুরুষত্বহীন, এবং তিনি বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ২ জুলাই রায়গড় জেলার এক পারিবারিক আদালতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৪৪ ধারার অধীনে স্বামীর কাছ থেকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভরণপোষণ চেয়ে আবেদন করেন ওই তরুণী। এর পালটা, মহিলার স্বামী তাঁর স্ত্রীয়ের কুমারীত্ব পরীক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে দেওরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সেই বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই এমন অভিযোগ তুলছেন। পারিবারিক আদালত স্বামীর আবেদন খারিজ করে দিলে হাইকোর্টে ফৌজদারি আবেদন দায়ের করেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। আবার সেই আবেদন খারিজ করেছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত আরও জানিয়েছে, আবেদনকারী যদি প্রমাণ করতে চান যে পুরুষত্বহীনতার অভিযোগ ভিত্তিহীন, তাহলে তিনি মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে পারেন কিংবা অন্য কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেন।
…………..
News Hub