দুটি মালগাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে ঝলসে মৃত্যু হল ২ জন লোকো পাইলটের। এছাড়াও ট্রেনের দুমড়ে যাওয়া বগির মধ্যে ১ জন লোকো পাইলটের দেহ আটকে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মৃত চালকদের মধ্যে ১ জন বাংলার গঙ্গেশ্বর মাল। তিনি জিয়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের জেরে ট্রেন দুটিতে আগুন ধরে যায়। মঙ্গলবার ভোররাতে এই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে ঝাড়খণ্ডে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ সাহেবগঞ্জে দুটি মালগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর জখম হয়েছেন কয়েকজন সিআইএসএফ জওয়ানও।
দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, ইঞ্জিনটিতে ৭ জন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। একজন শ্রমিক ইঞ্জিনে আটকে পড়লেও পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বারহাইট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে গুরুতর আহতদের ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
মৃত ২ লোকো পাইলটের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে থাকতেন। চাকরি জীবনের একেবারে শেষ দিনটিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন গঙ্গেশ্বর। বুধবার থেকেই তাঁর অবসর জীবন শুরু হওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় রেলের মালগাড়ির চালক হিসেবে দীর্ঘদিন দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে এসেছেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে মালগাড়ি নিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলার ফরাক্কায় ফেরার পথেই তাঁর চাকরি জীবনের গতিময়তায় ছেদ পড়ল। ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হল গঙ্গেশ্বরকে। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে।
মৃত অপর লোকো পাইলটের নাম অম্বুজ মাহাতো। তিনি বোকারো জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আহত হয়েছেন ৩২ বছরের জিতেন্দ্র কুমার, ৪৫ বছরের উদয় মণ্ডল, ৪৮ বছর বয়সের টিকে নাথ এবং ৫৫ বছরের রাম ঘোষ।
এদিন দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেলের আধিকারিক ও বারহাইট থানার পুলিশ। কী কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। রেলওয়ের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে মালগাড়িগুলিকে সরানোর জন্য পূর্ব রেলওয়ের মালদা ডিভিশন থেকে ক্রেন চেয়ে পাঠানো হয়েছে।