• facebook
  • twitter
Saturday, 5 April, 2025

শীর্ষে বাংলা ভাষা, ছাপিয়ে গেল হিন্দিকে

হিন্দিকে টপকে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলা ভাষা। ২০২৩-এর এই ক্রম বলছে হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা বেড়ে সে বছর হয়েছিল ৬০ কোটি ৯৫ লক্ষ।

প্রতীকী চিত্র

হিন্দিকে টপকে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলা ভাষা। ২০২৩-এর এই ক্রম বলছে হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা বেড়ে সে বছর হয়েছিল ৬০ কোটি ৯৫ লক্ষ। সেখানে বাংলার জায়গা ছিল সপ্তম স্থানে। সে বছর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা ছিল ২৭ কোটি ২৮ লক্ষ। ২০২৪-এর পরিসংখ্যান বলছে এই পর্যায়ক্রমেই হিন্দিকে টপকে গিয়েছে বাংলা। বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা ঠিক কত, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি সহ গ্লোবাল পপুলেশন র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী তার রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে কিছুদিনের মধ্যেই।

তবে প্রতি বছর এই রিপোর্ট বদলায় বলে জানা গিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষে নানা সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে ইউনেস্কো স্বীকৃত নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থা বাংলা ভাষার বিস্তারের হিসাব নিয়েছে। এই রিপোর্টের মূল ভিত্তি বাংলাদেশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এ দেশের পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা-সহ ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মুম্বই ও দক্ষিণ ভারতে বিস্তৃত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা। তার সঙ্গে ইউরোপ, পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার একটা অংশে বেশ কিছু সংখ্যায় বাঙালির বাস। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার নানা প্রদেশে বাঙালি তথা বাংলা ভাষাভাষীর বাস এবং কাজ করেন। ইউনেস্কো যাদের মাধ্যমে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে, সেইসব সংস্থাই এই তথ্য সামনে এনেছে। তবে বিশ্বের নিরিখে বাংলা ভাষা হিন্দিকে টপকে গেলেও দেশে আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে সব থেকে ব্যবহারের তালিকায় থাকা হিন্দি ভাষাই প্রথম স্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার তো বটেই, বাংলাদেশ, ইউনেস্কো বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন বা সোমালিয়ার মতো দেশের অর্থনীতিতেও এই রিপোর্ট প্রভাব ফেলে।

কীভাবে কাজটা করা হয়, সেই বিষয়েও আলোকপাত করলেন বিশেষজ্ঞরা। যদি এই দেশের কথাই কথাই ধরা হয়, তাহলে কেন্দ্র সরকার দেখবে কতজন বাংলাভাষী নাগরিক দেশের বাইরে রয়েছেন। তাঁদের কতজন প্রবাসী তাও দেখা হবে। সঙ্গে দেখা হয় কতজন মানুষ দেশের কোনও কাজের সঙ্গে জড়িত, বাংলাভাষী কত মানুষ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। সবটা দেখে ওই নির্দিষ্ট ভাষার মানুষের জন্য পাল্টা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ তৈরি রাখার মতো নানা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কাজ চালাতে থাকে কেন্দ্র সরকার। অন্য দেশের অধিবাসী কিন্তু মাতৃভাষা বাংলা, এমন মানুষের তথ্যভাণ্ডারও তৈরি রাখা হয়।

তবে এই তথ্য শুধু কোনও দেশের সরকারেরই যে কাজে লাগে তেমন নয়, জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ওষুধ, প্রযুক্তির নানা দিক বা শিক্ষা সংক্রান্ত বেশ কিছু ক্ষেত্রে নানা সংস্থার বাণিজ্যিক ব্যবহারে কাজে লাগে এই তথ্য।