• facebook
  • twitter
Friday, 4 April, 2025

সুর সাধনা

তরুণ প্রজন্মের তরুণ শিষ্য বিবেক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে তবলা উপহার দিলেন তবলাসাধক ও কিংবদন্তী পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়।

নিজস্ব চিত্র

মার্গ দর্শন আর্টসের নিবেদনে কলকাতার জ্ঞান-মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো দ্বিতীয় বর্ষের ‘সুর সাধনা’ শীর্ষক শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য যে আচার্য বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর স্মরণে এই অনুষ্ঠানটির ২০২৪ সালে সূচনা করেছিলেন তাঁর অন্যতম প্রিয় শিষ্য সরোদিয়া পণ্ডিত দেবাশিস ভট্টাচার্য । এটি সেই অর্থে ছিল উৎসবের দ্বিতীয় বছর। গুরুর স্মরণে তো বটেই, এছাড়াও তবলা মায়েস্ত্রো ওস্তাদ জাকির হোসেনের স্মরণ করা হয় এই অনুষ্ঠানে। মঞ্চের একপাশে রাখা দাদাগুরু সঙ্গীতাচার্য রাধিকামোহন মৈত্র ও আচার্য বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এবং অন্য পাশে রাখা তবলা মায়েস্ত্রোর ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন পণ্ডিত দেবাশিস ভট্টাচার্য, দুই কন্যা দেবস্মিতা ও পারমিতা, স্ত্রী সংগীতা, জামাতা গুরদিয়ান রায়ৎ। এরপর মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন; তারপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। কলকাতার সংগীতমহলে সবিশেষ পরিচিত পণ্ডিত শান্তনু ভট্টাচার্যের কণ্ঠসঙ্গীত ও মুলতানি রাগ নিবেদনের মাধ্যমে অপরাহ্নে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

প্রথম বন্দিশটির রচনাকার তাঁর দাদাগুরু পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, দ্বিতীয়টির রচনা করেছেন তাঁর গুরু পণ্ডিত প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানালেন। এরপর শোনান রাগ অঞ্জলি “পূজা করোরে সরস্বতী কি”। শেষে কৌশিধ্বনি রাগে একটি পরিবেশনা “ইয়াদ উনকি আয়ে” গাইলেন; তবে কথা পরিবর্তিত করলেও এটি প্যারোডি নয় বলে জানালেন। এরপর ছিল একজন সরোদবাদকের তরফে আরেকজন সরোদ বাজিয়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। সরোদিয়া পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস এই অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করেছিলেন রাগ সামন্ত সারং। নয়খানি সারংয়ের সমাবেশ ঘটেছে এই রাগে। প্রথমে ঝাঁপতাল গত এবং পরে তাঁর গুরু উস্তাদ আমজাদ আলি খাঁ-র সৃষ্ট আমজাদখানি গত পরিবেশন করেন। পরিবেশনা অপরূপ মুগ্ধতা আনে। এরপর শোনান রাগ কাফি যেটি তিনি শিখেছিলেন বুদ্ধকাকার (পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের) কাছ থেকে। আনন্দদায়ক এই পর্বে তবলায় উপভোগ্য সঙ্গত প্রদান করেন পণ্ডিত অরূপ চট্টোপাধ্যায়।

এরপর ছিল একক তবলা লহরা পর্ব । তরুণ প্রজন্মের তরুণ শিষ্য বিবেক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে তবলা উপহার দিলেন তবলাসাধক ও কিংবদন্তী পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিজ্ঞ ভান্ডারের ঝুলি থেকে ত্রিতাল আধারে অসাধারণ কিছু পরিবেশনা যেন বাঙ্ময় করে রাখে! সোয়া ঘন্টার উপর পরিবেশন পর্বে চলন, উপজ, ধেরে ধেরে অঙ্গ, কিছু কম্পোজিশনস, রেলা ইত্যাদি বাজনা তাঁর হাত থেকে বেরোলো যেগুলি বিস্ময় ছাড়া আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।

হারমোনিয়ামে নগমা রেখেছিলেন হিরন্ময় মিত্র। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল সেতার পরিবেশনা। বুদ্ধকাকার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন তারই আরেক প্রিয় শিষ্য পণ্ডিত নয়ন ঘোষ। এই দিনের জন্য চয়ন করেছিলেন রাগ ঝিঁঝিট। যেটি কাকার পছন্দের রাগ, আর যেকারণে এই নির্বাচন বলে জানালেন। প্রথামাফিক আলাপ-জোড়-ঝালা এবং পরে গত নিবেদন করেছিলেন। বিলম্বিত ত্রিতাল গত, মধ্যলয়ে ছোট ছোট কয়েকটা গত শোনালেন আদ্ধা তালে। পরে আমির হোসেন খাঁ সাহেবের গত পরিবেশন করলেন দ্রুত ত্রিতালে। এরপর একে একে নিজের তৈরি গত, ছোট ভাই ধ্রুব ঘোষ রচিত গত বাজিয়ে শোনালেন। শেষে ছিল উপভোগ্য ঝালা। বাউল গানের সুর নিজ কণ্ঠে গেয়ে ও সেতারে পরিবেশন করে সমাপন ঘটালেন। আগাগোড়া সুসঙ্গতে ছিলেন পুত্র ঈশান ঘোষ।