নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি তিন বছর তাঁর নিজ রাজ্য গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই ছোট রাজ্যের শাসন কার্য পরিচালনা করায় তাঁর খুব বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন হয়নি। তাঁর সময়েই গুজরাত ভয়াবহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখেছে। রাজ্যের মানুষ খুব একটা সুখেস্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে পারেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়নি সে কথাও বলা যাবে না।
এরপর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটা বড় পট পরিবর্তন। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ ১৩৭ কোটি দেশের শাসনভার এবং উন্নয়ন তাঁর হাতে এল। তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে একটি বিরাট উত্থান ঘটল। দুই দফায় বিজেপি লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় একাকী সরকার গঠন করল। আর প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতেও বসলেন নরেন্দ্র মোদী। দশ বছরের শাসনকালে দেশে আহামরি কোনও উন্নতি হয়নি— যদিও বিজেপি তা স্বীকার করে না। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি দেশবাসীকে উন্নয়নের ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারিত্ব দূরীকরণের তাঁর অন্যতম প্রতিশ্রুতি।দেশের মানুষ তাঁর কথায় বিশ্বাস করেছিল— কারণ তাঁরা কংগ্রেস শাসন দেখেছে, দেখেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শাসনও। দেশের উন্নয়ন যে একেবারেই হয়নি, তা বলা যাবে না। তবে মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান হয়নি। সেই সমস্যাগুলির জন্য মানুষ এখনও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
প্রথম দুই দফায় বিজেপির শাসনে যে দেশের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা দূর হয়েছে, তা বলা যাবে না। নরেন্দ্র মোদী প্রথম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উন্নয়ন ও দারিদ্র দূরীকরণ সমস্যার সমাধানের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের মানুষের আস্থাভাজন হয়েছিলেন, তার কিছুই সে ভাবে হয়নি। গরিব আরও গরিব হয়েছে, বেকারিত্ব আরও বেশি বেড়েছে, কর্মসংস্থানের পথ রুদ্ধই থেকেছে। শুধু কথায় অর্থাৎ প্রতিশ্রুতিতে মানুষের সমস্যা দূর হয় না, কাজ করে তার প্রমাণ দিতে হয়। তাই বলে দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন একেবারেই হয়নি তাও বলা যাবে না। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা যে বিপুল হারে বেড়ে চলেছে, তার ফলে যে উন্নয়ন বিজেপি সরকারের আমলে দশ বছরে হয়েছে, তা চোখে পড়ে না। গত লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেল এই দল মানুষের আস্থা অনেকটাই হারিয়েছে। নির্বাচনে দেখা গেল বিজেপি আর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নয়— একাকী কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে অক্ষম। কিন্তু দল এককভাবে লোকসভায় নির্বাচনে বেশি আসনে জয়লাভ করল। কিন্তু একাকী সরকার গঠন করার মতো আসন পেল না। সুতরাং তাঁকে নির্ভরকরতে হল বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এবং অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের সমর্থকদের ওপর। সুতরাং বিজেপি যে আগের শক্তি ধরে রাখতে পারল না তার প্রমাণ মিলল।
তৃতীয় বারের জন্য বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষময়া এল বটে, কিন্তু শরিকি নির্ভর হয়ে পড়ল। অন্ধ্র ও বিহারের যে দুই দলের সমর্থনে এবার বিজেপি সরকার গড়ল, তার স্থায়িত্ব পাঁচ বছর হবে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। এই দুই দলের যে কোনও একটি কোনও কারণে সমর্থন তুলে নিলে বিজেপি সরকারের বিপদ ঘণ্টা বেজে উঠবে। তা সামলানো কঠিন হবে। ওদিকে বিরোধী গোষ্ঠী ‘ইন্ডিয়া’ ওঁত পেতে আছে কখন এই দল সংকটে পড়ে।
কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা সবসময়ই সেই দুশ্চিন্তা নিয়ে থাকলেও, মুখে তাঁরা তা স্বীকার করছেন না। তাঁদের আশা, তৃতীয়বারের বিজেপি সরকারও পাঁচ বছর টিকে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী দেশকে সুশাসন দেবেন। ভালো কথা। আশায় বুক বাঁধাই যায়। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন যে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন, তাতে ঠিক মধ্যবিত্তের সুখের জন্য আয়ের ওপরে কর ছাড়ের কথা ঘোষণা করে বাহবা নিলেন বটে— কিন্তু দেশের মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান কীভাবে হবে, তার কোনও পথ দেখালেন না।
তিন-চারটি গুরুতর সমস্যা সমাধানের দিকে মোদী সরকারের কোনও নজর আছে বাজেটে কিন্তু তার প্রতিফলন দেখা গেল না। সমস্যাগুলি হল— দারিদ্রদূরীকরণ বেকারিত্বের হার কমানো, কর্মসংসআথান সৃষ্টি, সারা দেশে বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রতিটি ঘরে নিয়মিত সরবরাহ এবং গ্রামেগঞ্জের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ। এই সরকার নিশ্চয়ই জানে এখনও প্রত্যন্ত গ্রামেগঞ্জে দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষের দুই বেলা পেটে অন্ন জোটে না। তাঁরা বেশির ভাগ একবেলা খেয়েই বেঁচে রয়েছে। তাঁদের কাজ নেই, তাই উপার্জনও নেই। সুতরাং একবেলা অনাহারে থাকা।
এই মুহূর্তে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ঠিক কত, তার হিসেব কেন্দ্রের কাছে নেই। ঘরে ঘরে বেকার আর ঘরে ঘরে হাহাকার। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন থেকেই কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারিত্ব দূর করার কথা বলে আসছেন। কিন্তু তাঁর কথাই সার। তাঁর রোজগার মেলায় চাকরি দেওয়ার কথা এখন আর শোনা যায় না। কারণ বিরোধীরা অভিযোগ এনেছেন গত কয়েকটি রোজগার মেলায় ঘটা করে যাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের শূন্যপদ পূরণ করতে। তা নতুন চাকরি নয়। এখন সেই শূন্য পদ পূরণ হয়েছে, তাই রোজগার মেলার কথাও শোনা যায় না।
অর্থমন্ত্রীর বাজেটে নেই কর্মসংস্থান কীভাবে সৃষ্টি হবে। দেশে বড় বড় শিল্প স্থাপন না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না— বেকারদের ভাগ্যেও কাজ মিলবে না। অসাধারণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, নিয়ন্ত্রণের কোনও কথা শোনান না তিনি। তেমনই শোনাননি প্রখর গ্রীষ্মে পানীয় জলের জন্য গ্রামেগঞ্জে যে হাহাকার ওঠে, তার সমাধানের কথাও। বছরের পর বছর এইসব মৌলিক সমস্যাগুলি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এইসব সমস্যাগুলি নিয়ে কী বলবেন? দেশের মানুষ শুনতে চায়।
স্বাধীনতার পর দেশে যত সরকারই এসেছে— তাদের মুখে একই বুলি দারিদ্র দূর করতে হবে। সাধারণ মানুষ যে যে সমস্যায় ভুগছে তার সমাধান করতে হবে। কিন্তু কোনও সরকারই দারিদ্র দূর করা তো দূরের কথা, তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। কোনও সরকারই দলিত এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন যাতে একটু স্বাচ্ছন্দের হয়, দু’বেলা খাার জোটে তার ব্যবস্থা করেনি। কিন্তু প্রতিশ্রুতির অভাব নেই, যেটা অভাব কাজের। মুখে বড় বড় কথা, কিন্তু নেতাদের সেসব কথায় এখন থেকে মানুষ ভোলে না। নেতারা যে নিজেদের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে এই প্রতিশ্রুতি, তা এখন তারা ধরে ফেলেছে।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কী কাজ করল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উন্নত ভারতের কথা বলেন, কিন্তু সমাজের বৃহৎ এক শ্রেণির মানুষ যে দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত, তাদের কথা ভাবেন না। অর্থমন্ত্রী এবার যে বাজেট পেশ করলেন, তাতে এমন কোনও কথা নেই, যে সরকার অবহেলিত শ্রেণির দুঃখ-দুর্দশা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এই বাজেট যাদের খুশি করেছে তারা বিত্তবান— তাদের ভাণ্ডার সম্পদে পূর্ণ— আরও যাদে সম্পদ লাভ করতে পারে তার জন্য এই বাজেট সুযোগ তাদের করে দেবে। এই অবহেলিত শ্রেণির মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের এই পথ খোলা নেই। তাই তাদের রুজি-রোজগারের পথ বন্ধ। তারা নানা অভাব ও দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। কিন্তু ভোট এলে সব দলই ক্ষমতা পেলে তাদের দুঃখ-কষ্ট পূরণ করার কথা বলে তাদের ভোট চায়। কিন্তু জিলে আর তাদের কথা মনে থাকে না। প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনও চেষ্টা করতে তাদের দেখা যায় না। স্বাধীনতার পর এইভাবেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে— কোনও সরকারই তাদের দুঃখ লাঘব করার চেষ্টা করেনি। তারা বঞ্চিত ও অভাবে পীড়িতই থেকে গেল। এদের একবেলা আহার পেটে দিয়ে উন্নত ভারত হয় কী করে?
প্রধান প্রধান সমস্যার দিকে না তাকিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতা লাভের জন্য ব্যাকুল। কীভাবে ভোটে জিতে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করবে, তা নিয়েই তারা ব্যস্ত। দেশের সব বিরোধী দল এক হয়ে ‘ইন্ডিয়া’ নামে একটি জোট গঠন করেছে। কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করবে। কিসের জন্য এই লড়াই? ক্ষমতা লাভের জন্য। কিন্তু তার জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, কিন্তু সেই ঐক্য ওই জোটের নেতাদের মধ্যে নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি এবং সমন্বয়ের জন্য বহু চেষ্টা করেছেন— কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এই জোটের প্রধান মুখ কে হবেন, তা নিয়ে মতবিরোধ— যে যার সুবিধা মতো বলছেন। সুতরাং এই জোট কোনওদিন ক্ষমতায় এলে, নিজেদের মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা রক্ষা করে কতদিন চলতে পারবে, তা নয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজেপি শাসিত রাজ্যের প্রায় সব মুখ্যমন্ত্রীরাই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন না বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। কিন্তু তিনি তাঁর দলের শীর্ষ নেতাদের পাঠিয়েছিলেন। নীতিশ কুমার শপথ অনুষ্ঠানে নেই— এই নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেল। তাহলে কি নীতিশ কুমার ডিগবাজি খাওয়ার পথ খুঁজছেন? তাঁর দল যদি সমর্থন তুলে নেয়, তাহলে বিজেপি সরকার সংকটে পড়বে। কারণ বিজেপি এককভাবে সরকার গঠন করতে না পেরে— নীতিশ কুমার ও অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের সমর্থনপুষ্ট হয়ে সরকার গড়েছে। তখনই ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এই সরকার পুরো পাঁচ বছর টিকবে না। আর না টিকলে ইন্ডিয়া জোটের কাছে একটি সুযোগ আসবে সরকার গড়ার। তাই নীতিশ কুমারের অনুপস্থিতিতে জোটের নেতাদের মনে একটি ক্ষীণ আশার সঞ্চার হয়েছিল, দিল্লির মসনদ যদি পাওয়া যায়। জোট কিন্তু সেই আশায় বসে আছে, কখন কখন এনডিএ-তে ভাঙন ধরে। অথচ জোটের নেতাদের মধ্যেই মিলের অভাব, খাওয়াখায়ি।
জোটের নেতাদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং নীতিশ কুমারকে হাত ধরাধরি করে বিহারের ভাগলপুরের একটি অনুষ্ঠান মঞ্চেও দেখা গেল। শুধু হাত ধরাধরি নয়, প্রধানমন্ত্রী বিহারের সার্বিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে। আর নীতিশ কুমার প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করে বললেন, কেন্দ্র বিহারের উন্নয়নের জন্য যেভাবে চেষ্টা করছে, তার জন্য তিনি কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এই বছরের শেষের দিকে বিহার বিধানসভার নির্বাচন। সুতরাং ভোট-প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাঁর দলের সামনে বিরাট সুযোগ এসে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের বদান্যতায়। তারপরের বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। নরেন্দ্র মোদী তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রীদের এই রাজ্যের নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজে এখন থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ঝাঁপানোর কথা বলে কী হবে— রাজ্য বিজেপির নেতারা যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। অভাব ঐক্যের আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির আশায় জল ঢেলে দিয়ে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন, তাঁর দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন ঝুলিতে ভরে চতুর্থবারের জন্য সরকার গড়বে। সুতরাং বিজেপি অনেকদিন হল এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখে আসছে, কিন্তু সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পদ্ম ফোটানো খুব কঠিন। তাই শুধু স্বপ্ন দেখে যাওয়া, স্বপ্নের মধ্যেই ক্ষমতা লাভের জন্য লাফালাফি।