• facebook
  • twitter
Saturday, 5 April, 2025

বাঙালির ভাষা

ভাষার বিচারে শব্দ কথাটির অর্থ অর্থময় অথবা ইঙ্গিতবহ অক্ষর বা অক্ষরসমষ্টি

ফাইল চিত্র

শ্রী সুকুমার সেন

 

পূর্ব প্রকাশিতর পর

বৈদিক সংস্কৃতে যশস্ শব্দে যদি প্রথম স্বরে ঝোঁক থাকে তবে মানে হয় গৌরব (ক্লীবলিঙ্গ), আর দ্বিতীয় স্বরে ঝোঁক থাকলে মানে হয় গৌরবযুক্ত (পুংলিঙ্গ)। দাতর্ (দাতৃ) শব্দে যদি প্রথমে ঝোঁক পড়ে তবে মানে হয় ‘দান’ আর যদি দ্বিতীয় অক্ষরে ঝোঁক পড়ে তবে মানে হয় ‘দাতা’।

শব্দ ও পদ : শব্দ ও পদের বিচার-বিশ্লেষণ
ভাষার বিচারে শব্দ কথাটির অর্থ অর্থময় অথবা ইঙ্গিতবহ অক্ষর বা অক্ষরসমষ্টি। যেমন ‘হ্যাঁ’ ‘এ’ ‘ও’ ‘না’ এ সবই একাক্ষর শব্দ, তেমনি দ্ব্যক্ষর বা বহ্বক্ষর শব্দ ‘আয়’ ‘এই’ ‘কর’ ‘চলো’ ‘অপরাধ’ ‘চল হে’ ‘বলত’ ইত্যাদি।

আগেই বলেছি, শব্দের প্রকাশ দ্বিবিধ, এক মুখ না থেকে নির্গত ধ্বনিসমষ্টি। অথবা এই ধ্বনির লিখিত রূপ বা বর্ণ। যে শব্দ বা শব্দাবলীর দ্বারা মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয় তাকে বলে বাক্য। যেমন ‘এ সকল লোক বাইরে থেকে এসেছে’, ‘তুমি কোন গগনের তারা?’

যে রূপে শব্দ বাক্যে প্রকাশিত হয় তাকে বলে পদ, ইংরেজিতে inflectional word। পদ শব্দের সঙ্গে অভিন্ন হতে পারে, আবার ভিন্নও হতে পারে। পদ ও শব্দ অভিন্ন: ‘রাম’ ‘আমি’ ‘গোরু’ ‘সব’ ‘কোণ‘ ‘দুঃসহ’ ‘আলোছায়া’। কোথাও কোথাও শব্দ ও পদ ভিন্নও হতে পারে যথা ‘রামের‘ ‘গোরুকে’ ‘আলোছায়ায়’ ‘কোণে’ ইত্যাদি।

বাক্যে পদসমূহের অবস্থানের বিশেষ নিয়ম আছে। সেই নিয়মকে বলে পদান্বয় (ইংরেজিতে বলে syntax)। যেমন ‘নেই তাই খাচ্ছো, থাকলে কোথায় পেতে’। এই বাক্যে পদক্রম ওলট পালট হলে অর্থপ্রকাশ হয় না। যেমন, ‘খাচ্ছো নেই তাই পেতে থাকলে কোথায়’।

বাক্য কতকগুলি শব্দের মালা। বাক্যের অর্থ যেমন সমগ্র, শব্দের অর্থ তেমন সমগ্র নয়। সেই সমগ্রের খন্ড, এই বাক্যখন্ড বা শব্দের দুটি প্রধান শ্রেণীঃ ১. নাম, ২. ধাতু। বিশেষণ ছাড়া বিশেষ্য ও সর্বনামের ‘বচন’ ভেদ আছে। একটি বোঝালে একবচন। একাধিক বোঝালে বহুবচন। নাম বোঝায় বস্তু, তা স্থূল হতে পারে সূক্ষ্ম ভাবময় হতে পারে। আর ধাতু হল কাজ, যাতে বিভক্তি দিলে হয় ক্রিয়া বা ক্রিয়াপদ।

(ক্রমশ)