মাছে-ভাতে বাঙালির অতি পরিচিত তকমাটা অনেকাংশেই হারিয়ে যেতে বসেছে মাছের মূল্যবৃদ্ধির কারণে। বাংলায় পরিচিত রুই, কাতলা, মৃগেলের মতো মাছ স্বল্প আয়ের বাঙালির পাতে তেমন একটা ওঠে না। সিলভার কাপ বা রূপচাঁদার মতো অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের মাছ ভাতের পাতে তুলে রসনা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে হয় তাদের। এখনও এরাজ্য মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন না হওয়ার কারণে, রাজ্যে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভিনরাজ্যের মাছের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে।
ভিনরাজ্যের উপরে এই নির্ভরতা কাটাতে রাজ্য মৎস্য দপ্তর রাজ্যে মাছ উৎপাদনের উপরে জোর দিয়েছে। বড় মাছের সাথে ছোটজাতের মাছের উৎপাদন বাড়াতে ‘খালবিল’ উৎসবও করা হচ্ছে। রাজ্য মৎস্য দপ্তরের এই কর্মসূচিকে জেলায় মাছ উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে সফল করতে বীরভূম জেলা মৎস্য দপ্তর জেলার ১৯টি ব্লকের মাছ চাষিদের প্রশিক্ষণও দেয়। সেই প্রশিক্ষণে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, মৎস্যজীবীরা মাছ চাষ করে যাতে লাভবান হন এবং উপভোক্তারা নির্দিষ্ট মাপ ও মানের মাছ পান তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রতিটি ব্লকের বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদেরও সতর্ক করে দেওয়া হয়। আর জেলার তিন হাজার উপভোক্তাকে যে মাছের চারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা কার্যকরী করার ভার দেওয়া হয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে। তখন মাছের যে চারা দেওয়া হবে তার ওজন ও পরিমাণ বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, কাতলা মাছের চারার ওজন ৪০০ গ্রাম, রুই ও মৃগেল মাছের চারার ওজন ৩০০ গ্রাম করে হতে হবে এবং এজন্য জেলার ১৯টি ব্লকের মৎস্যজীবীদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকার করে মাছের চারা দেওয়ার কথা জানানো হয়।
জেলায় এই প্রথম নথিভুক্ত মহিলা সংঘ ও মহাসংঘকে মাছের এই চারা সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর দেখা গিয়েছে মহিলা সংঘ ও মহাসংঘ কোনও নির্দেশের তোয়াক্কা না করে রুই, কাতলা, মৃগেলের চারার পরিবর্তে সিলভার কাপ, রূপচাঁদা মাছের ক্ষুদ্র চারা বিলির জন্য তৈরী করে নিয়প আসছে। যা দেখে হতবাক হয়ে মাছের চারা সরবরাহকারী গ্রামোন্নয়ন দপ্তর হতবাক হয়ে গিয়ে ওইসব মাছের চারা নিতে অসম্মত হয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছে। এবং মহিলা সংঘ ও মহাসংঘকে নির্দিষ্ট মাছের চারা ওজন অনুযায়ী সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ওই চারা কবে পাওয়া যাবে, তার কোনও নির্দিষ্ট দিশা পাওয়া যাচ্ছে না। আর এরফলে জেলায় মাছ উৎপাদন ব্যাহত হবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।