• facebook
  • twitter
Thursday, 3 April, 2025

একাধিক আঙুলের ছাপে ভুয়ো সিমের রমরমা

ভুয়ো সিম কার্ডের ব্যবসায় বরাবরই নাম উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদের। এর আগেও এখানে নানা অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ভুয়ো সিম বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ।

ভুয়ো সিম কার্ড চক্রের জাল ছিড়তে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠিত সাইবার অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের একাধিক সীমান্তবর্তী থানা এলাকায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বিশেষ করে, মুর্শিদাবাদ ঘেঁষা সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করল সাইবার অপরাধ শাখা। ভুয়ো সিম কার্ড চক্রে ইতিমধ্যে নতুন করে মুর্শিদাবাদের ৫০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে সাইবার অপরাধ শাখা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণও হাতে রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

ভুয়ো সিম কার্ডের ব্যবসায় বরাবরই নাম উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদের। এর আগেও এখানে নানা অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ভুয়ো সিম বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কয়েক জনকে। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভুয়ো সিম কার্ডগুলি ‘প্রি-অ্যাকটিভেটেড’। অর্থাৎ আগে থেকেই চালু। এই সিম পেতে কোনও পরিচয়পত্র লাগে না। আর এখানেই এই সিমের বিপদ। দুষ্কৃতীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে অন্যের নামে নেওয়া এই সিম কার্ড অবলীলায় ব্যবহার করে। তার পর মোবাইলে সেই সিম ব্যবহার করে তোলাবাজি, অপহরণ থেকে নাশকতা— নানা ধরনের অপরাধের ছক কষা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মোবাইলের নতুন সিম সংযোগ নিতে গেলে ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দিতে হয়, অর্থাৎ আঙুলের ছাপ। এই আঙুলের চাপ নেওয়ার সময় ঠিক-ঠাক হচ্ছে না বলে একাধিকবার ছাপ নিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই একাধিক ছাপের সঙ্গেই তাঁর নামে একটি করে সিমের সংযোগ করে নেওয়া হতে পারে। অথচ গ্রাহকের হাতে দেওয়া হল একটিই সিম। বাকি সিমগুলি চোরাপথে চলে যায় অপরাধ চক্রের হাতে। এমনই ভুয়ো সিম দিয়ে রাজ্য জুড়ে স্কুলপড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও জানায় তদন্তকারীদের ওই সূত্র।

তদন্তকারীরা আরও জানিযেছেন, মুর্শিদাবাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেলডাঙা, ফরাক্কা, সুতি, জলঙ্গি, নওদা, ভগবানগোলা ও হরিহরপাড়া থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এই ভুয়ো সিমের রমরমা ব্যবসা। গ্রাহক ভোটার-আধার কার্ড জাল করে বা আঙুলের ছাপে কারসাজি করে নেওয়া এই ভুয়ো সিম চড়া দামে বিক্রি করা হয় সাইবার অপরাধী চক্রের কাছে।

জেলা পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব বলেন, ‘ভুয়ো নথি দিয়ে সিম কার্ড চক্রের তদন্তে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। জেলায় প্রাথমিক ভাবে বেশ কয়েক জন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে।’