খুশি হোক বা দুঃখ, যেকোন মুহূর্তের দাওয়াই চকলেট। শারীরিক এনাৰ্জি বা মানসিক অবসাদ সবেতেই মোক্ষম কাজ করে চকোলেট। ১ টাকার ক্যান্ডি হোক বা হাজার-হাজার টাকার দামি চকলেট লোভনীয় সবার কাছে। তবে মোটেও সহজ নয় এই চকলেট তৈরির পদ্ধতি। চকলেটের মুখ্য উপাদান অর্থাৎ কোকোফল কিন্তু মূলত পাওয়া যায় সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনের জঙ্গলে। সেখানকার চিরহরিৎ অরণ্যই এর উৎপাদনের মূল স্থান। ভাবুন সেই দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গল থেকে গোটা বিশ্বে এর পরিচিতি। দেখতে ইচ্ছে করছে কি এই কোকো গাছের ফলন! ভাবছেন, দূর বাবা, তাহলে তো যেতে হয় সেই দক্ষিণ আমেরিকায়। ক’জনের সেই ক্ষমতা আছে। ছাড়ুন দক্ষিণ আমেরিকা, যদি বলি আমাদের পশ্চিমবঙ্গেই দেখা যেতে পারে এই কোকোবীজের ফলন।
অবাক হলেন তো! আমাদের পশ্চিমবঙ্গেই এই তাক লাগানো কাজ করে দেখিয়েছেন বেশ কিছু কৃষক। বসিরহাট মহকুমার ১ নম্বর ব্লকের মধ্যমপুরে ফলছে কোকো গাছ। আপাতত পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে এই উৎপাদন। তবে কৃষকদের বিশ্বাস খুব শীঘ্রই এই ফলন থেকে লাভ পাবেন তাঁরা। কোকোগাছের চাষ করা এমনই এক কৃষক শাহরুখ ইসলাম জানিয়েছেন, ‘দুবছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কোকো গাছ রোপণ করেছিলাম। ভালো ফলন হওয়ায় এবার এর থেকে চারাগাছ তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। এই গাছের যথেষ্ট বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও আছে।” উল্লেখ্য, কোকো চিরসবুজ গাছ, দেখতে অনেকটা গুল্মঝোপের মতো। উচ্চতায় ৭-৮ মিটার।
কোকো গাছে ফুল ও ফল ধরতে সময় লাগে তিন-চার বছর। ফুল ফলে পরিণত হয় ছয় মাসে। সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার পাশাপাশি আফ্রিকার ঘানা, আইভরি কোস্ট, নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনেও কোকো ফলের চাষ হয়। প্রতিটি কোকো ফলের পাঁচটি সারিতে ৩০-৪০টি বীজ থাকে। এই গাছের বীজ সংগ্রহ করে রোদে শুকানো হয়। শুকানো কোকো বীজ সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে শাঁস পাওয়া যায়, যাকে বলে কোকো বিনস। এই কোকো বিন রোস্ট করার পর গুঁড়ো করে পাওয়া যায় অতি মূল্যবান কোকো পাউডার। যা উৎকৃষ্ট মানের চকোলেট, কেক, আইসক্রিম ও রুটি-সহ প্রসাধনী সামগ্রী ও পানীয় তৈরির মূল উপাদান। এই গাছ এমন একটি জায়গায় লাগানো দরকার, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়বে না। অন্যান্য চাষের পাশাপাশি একে ফসল হিসাবে লাগানো যেতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু কোকো চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। বলে রাখি কোকো কেবল চকোলেট তৈরির জন্যই কাজে আসে না অবাক করে এর ফলের ওষধিগুণ। এই ফল একদিকে যেমন রক্তচাপ কমাতে বিষেশ কার্যকরী পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি স্নায়ুতন্ত্রের জরাঘটিত (নিউরো ডিজেনারেটিভ) রোগ প্রতিরোধ করে, কাশি কমায়। হার্টের জন্য ভালো। মস্তিষ্কের উন্নয়ন করে।