• facebook
  • twitter
Thursday, 3 April, 2025

দুর্ঘটনা এড়াতে রেলের ‘ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা’

বৃহৎ স্টেশনগুলিতে 'ওয়ার রুম' তৈরি করা হবে। অত্যাধিক ভিড় হলে সকল বিভাগের কর্মকর্তারা এই ওয়ার রুমে কাজ করবেন।

ফাইল চিত্র

উৎসবের মরসুমে বাড়তি ভিড় সামলাতে প্রত্যেক রেল স্টেশনকেই নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। মহাকুম্ভের সময় সাধারণত যে স্টেশনগুলোতে বেশি ভিড় হয়েছিল যেমন বারাণসী , অযোধ্যা, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়, দানাপুর এবং নয়াদিল্লি স্টেশনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ভিড় ব্যবস্থাপনার জন্য নজরদারি রাখতে এবং পর্যবেক্ষণের জন্য ১১৬ টি ফেস রিকগনিশন সিস্টেম (এফআরএস) ক্যামেরা এবং ড্রোন ক্যামেরা সহ মোট প্রায় ১২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ১৫ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পদদলিত হয়ে ১৮ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছিলেন। সেই কথা মাথায় রেখেই এবার, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্নির্মাণ অনুমোদিত হয়েছে।

অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পটি মূলত স্টেশনগুলির উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে স্টেশন অ্যাক্সেস, সার্কুলেশন এরিয়া, অপেক্ষার হল, টয়লেট, লিফ্ট, নিয়মমাফিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ, ব্যবসায়িক সভার স্থান প্রভৃতি।

এছাড়াও, এই প্রকল্পে শহরের উভয় পাশে স্টেশনের সাথে যুক্ত ভবনের উন্নতি, যাত্রীদের জন্য প্রশস্ত এয়ার কনকোর্স প্রভৃতির মতো সুবিধাগুলিও সংযোজিত হয়েছে। মহাকুম্ভের সময় দিল্লি, পাটনা, প্রয়াগের স্টেশনগুলিতে উপচে পড়া ভিড়ের কথা মাথায় রেখে সারা দেশের ৬০টি স্টেশনের বাইরে স্থায়ী অপেক্ষার স্থান তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দিল্লি, আনন্দ বিহার, বারাণসী, অযোধ্যা এবং গাজিয়াবাদ স্টেশনগুলিতে পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।

এক্ষেত্রে কোনো কারণে হঠাৎ ভিড় হলে এই অপেক্ষার স্থানে জনসমাবেশ হবে এবং ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছালেই যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে যেতে দেওয়া হবে। এর ফলে স্টেশনগুলিতে ভিড় কমবে। এছাড়াও, ৬০টি স্টেশনে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। টিকিট রিজার্ভ থাকলেই কেবলমাত্র যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে সরাসরি প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। যাঁদের টিকিট থাকবে না অথবা যাঁরা ওয়েটিং লিস্টে থাকবেন তাঁদের বাইরে ওয়েটিং এরিয়ায় অপেক্ষা করতে হবে। সমস্ত অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কড়া পর্যবেক্ষণের জন্য সমস্ত স্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর সংখ্যক ক্যামেরা লাগানো হবে।

বৃহৎ স্টেশনগুলিতে ‘ওয়ার রুম’ তৈরি করা হবে। অত্যাধিক ভিড় হলে সকল বিভাগের কর্মকর্তারা এই ওয়ার রুমে কাজ করবেন। যেসব স্টেশনে ভিড় বেশি সেখানে ওয়াকি-টকি, কলিং সিস্টেমের মতো আধুনিক ডিজাইনের ডিজিটাল যোগাযোগ সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। সমস্ত কর্মীদের একটি নতুন রকমের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে যাতে শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিরা স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেন। স্টেশন ডিরেক্টর কেবল স্টেশনের ধারণক্ষমতা এবং উপলব্ধ ট্রেনের সংখ্যা অনুসারে টিকিট বিক্রি করতে পারবে। লোকসভায় লিখিত জবাবের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সকল তথ্য জানিয়েছেন।