লন্ডনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানাবিধ বৈঠক ও কর্মসূচির মধ্যে সোমবার ভারতীয় হাই কমিশনের একটি আলোচনাচক্রে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা শোনা যায়। এই সম্প্রীতির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ভারত-ব্রিটেন ও কলকাতা-লন্ডনের সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরেন। বাংলার ইতিহাসে ব্রিটেনের বেশ কয়েকজন মহীয়সীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর আলোচনায় উঠে আসে ভগিনী নিবেদিতা থেকে মাদার টেরেসার কথাও। কলকাতার সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বাংলায় দুর্গাপূজা থেকে বড়দিনে সমবেতভাবে উৎসব পালনের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
মমতা জানান, ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিন পালনের নিরিখে দেশের মধ্যে এগিয়ে বাংলা। পাশাপাশি বাংলার দুর্গাপুজোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। সেই গর্বের ইতিহাসও এদিন তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে বাংলা কতটা এগিয়ে তাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। খেলাধুলোর সঙ্গে সঙ্গে এ রাজ্যের অঙ্গাঙ্গী যোগের কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি মমতা। সবমিলিয়ে বাংলা যে শিল্প-সংস্কৃতি-ধর্ম-ঐতিহ্যের পীঠস্থান তা বিদেশের মাটিতে সর্বতভাবে বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে দিলেন, কেন বাংলাই বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান।
বাংলার রাজনীতিতে বিরোধীরা বারবার ধর্মের তাস খেলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর গায়ে সাম্প্রদায়িক তকমা লাগানোর চেষ্টা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশনে বসে মমতার সর্বধর্ম সমন্বয়ের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জানা গিয়েছে, লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশনের আমন্ত্রণে সোমবার সন্ধ্যের দিকে একটি আলোচনা চক্রে অংশগ্রহণ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ভারত-ব্রিটেনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বহু পুরনো। কলকাতার সঙ্গেও লন্ডনের সম্পর্ক শতাব্দী প্রাচীন। স্বাধীনতার আগে কলকাতা ভারতের রাজধানী ছিল। কলকাতা এখনও সাংস্কৃতিক রাজধানী।
সেখানে কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতার কথা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আয়ারল্যান্ডের নাগরিক হয়েও সিস্টার নিবেদিতা কীভাবে কলকাতা তথা ভারতের সমাজ ও শিক্ষার উন্নতিকল্পে কাজ করেছিলেন। কীভাবে স্বামীজীর সঙ্গে তাঁর আত্মার বন্ধন তৈরি হয়েছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেন মমতা। সেই সঙ্গে ভারতে মাদার টেরেসার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অতীতের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মাদার টেরেসার সঙ্গে একসাথে কাজ করার কথাও আলোচনায় তুলে ধরেন। মমতা বলেন, প্রথমবার সাংসদ থাকাকালীন তিনি মাদার টেরেসার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, মাদার যখনই কোনও সমস্যায় পড়তেন মমতার সঙ্গে আলোচনা করতেন। কিন্তু তিনি তখন রাজ্যের ক্ষমতায় না থাকলেও যথাসাধ্য সাহায্য়ের চেষ্টা করতেন উল্লেখ করেছেন। এমনকি তিনি মাদার টেরেসাকে সম্মান জানিয়ে নিউটাউনের ওয়্যাক্স মিউজিয়ামের নামকরণ করেছেন তাঁর নামেই। এছাড়াও রাজ্য সরকার সিস্টার নিবেদিতার দার্জিলিঙের বাড়িটিও কিনে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে সেই বাড়ি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।