লন্ডন শহরের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সেখানকার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এবারের লন্ডন সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ২৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড কেলগ কলেজে তাঁর ভাষণ। জানা গিয়েছে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। বৃহস্পতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে ভারতের এক প্রতিনিধিদল যাচ্ছেন। সেই দলে থাকছেন সৌরভ।
৬ দিনের সফরে শনিবার কলকাতা থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার লন্ডন পৌঁছন তিনি। বাকিংহ্যাম প্যালেসের কাছে সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেলে রয়েছেন। এবার লন্ডন সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বিশেষ সচিব গৌতম সান্যাল, শিল্প সচিব বন্দনা যাদব, ডাইরেক্টর অফ সিকিওরিটি পীযূষ পাণ্ডে। আগামী কয়েকদিনে ঠাসা কর্মসূচি থাকলেও বৃহস্পতিবারই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ। মূল বিষয়, সামাজিক উন্নয়ন। এমনিতেই সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর মডেল বিশ্ববন্দিত।
এই সাফল্যের কথাই শুনতে মুখিয়ে আছেন অক্সফোর্ডের পড়ুয়ারা। এমনিতেই মমতার অত্যন্ত স্নেহের বাংলার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একাধিক মঞ্চেই একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল মমতা-সৌরভকে। এরপরে রাজ্যের শিল্পউদ্যোগের সঙ্গেও জড়িয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। ইস্পাত কারখানা তৈরি করার জন্য রাজ্য সরকার শালবনীর জমি লিজ দিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। এমনকি চলতি বছরের বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘আমি এই রাজ্যে একটা ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করেছি। আর এই বিনিয়োগ করার ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ সব আধিকারিকের সম্পূর্ণ সাহায্য পেয়েছি।’
এমনকি গত মাসেই একদিন বিকেলে আচমকা নবান্নে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন সৌরভ। তখন নবান্নেই ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । দু’জনের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট কথাহয়েছিল। কিন্তু সৌরভ এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে এই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষই কেউই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। এবার জানা গেল অক্সফোর্ডেও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের শ্রোতা হতে চলেছেন দাদা।
অনেকেই মনে করছেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যাতে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাকে উপস্থাপিত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।