কথায় বলে, ‘বলা মুখ আর চলা পা’ কখনো থামানো যায় না। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ক্ষেত্রেও যেন সেই কথাটা সত্যি। শনিবার কাঁথির সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচনে অশান্তি নিয়ে এবার তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে লাঠিপেটা করার নিদান দিলেন।
প্রসঙ্গত রামনগরের ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বেশ কয়েকজন ভোটার ভোট দিতে যান। তাঁদের হাতে ছিল আধার কার্ড-সহ বেশ কয়েকটি পরিচয়পত্রের জেরক্স কপি। তখন কর্তব্যরত পুলিশ তাঁদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেন। তাঁদের আসল পরিচিয়পত্র দেখতে বলেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করতেই পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরির। বাগবিতণ্ডার সময় ধাক্কা লেগে ছিঁটকে পড়ে যান তিনি। যার জেরে হাতে চোট লাগে।
ঘটনার দিন অখিল গিরি বলেন, ‘পুলিশের লোকটাই আমার গায়ে হাত তুলেছে। জেরক্স কপি নিয়ে এসেছে বলে ভোট দিতে দিচ্ছে না। ভোটারদের বারবার হেনস্তা করা হচ্ছে।’ যদিও বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের ভোট দিতে বাধা দিয়েছে তৃণমূল। এ বিষয় নিয়েই এদিন তোপ দাগলেন দিলীপ।
আর অখিল গিরির এই মন্তব্যের পরেই তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, সব ভোটেই অশান্তি ছড়ানোই তৃণমূলের কাজ। রবিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ বলেন, অখিল গিরি গতকাল গুন্ডামি করেছেন। অখিলকে মারেনি কেন, ওঁকে মেরে বের করে দেওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে তাঁর দাবি, সমস্ত ভোটেই অশান্তির অ্যাজেন্ডা তৃণমূলের। একজন বিধায়ক ভোট কেন্দ্রে অশান্তি করবে তো চুপ করে থাকবে লোকে? লাঠি দিয়ে মেরে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, কাঁথি কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন সমবায় ব্যাঙ্কের ১১টি কেন্দ্রে ভোট হয় শনিবার। মোট আসন ৭৮টি। তার মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই ১৮টি আসনে জয়ী হন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। শনিবার বাকি ৬০ আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোট শুরুর পরেই কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ওইদিন কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোট ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রামনগর কলেজ চত্বর। আক্রান্ত হন তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি।