প্রয়াগরাজগামী ট্রেন ধরতে গিয়ে নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। সাত থেকে ৭৯ বছর বয়সি মৃতদের মধ্যে রয়েছেন চারজন পুরুষ, ন’জন মহিলা এবং পাঁচজন শিশু। আরও অন্তত জনা-পনেরো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও অভিযোগ, শুরুতে এই দুর্ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছিল রেল। এবার এই প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। দিল্লি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, ‘যে ভারতীয় রেলওয়েকে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনরেখা বলে মনে করা হয়, তা আজ ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপির অধীনে শাসনব্যবস্থা এক বহুমুখী সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে সবকিছুই অর্ধ এবং দিশাহীন ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।’ এরপরই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দিকে আঙ্গুল তুলে অভিষেক বলেন, ‘এই অর্ধমন্ত্রীর অপরাধমূলক অবহেলার ফলাফল হলো এই দুর্ঘটনা। যিনি নিজের কাজকে শুধুমাত্র প্রচারের হাতিয়ার বানিয়েছেন, অথচ তাঁর অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে নিরীহ মানুষের জীবন চলে গিয়েছে।’
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পর স্বয়ং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। দিল্লি ও রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভিড় কমাতে আরও স্পেশ্যাল ট্রেন চালানো হচ্ছে।’ ঠিক তার ২১ ঘণ্টা বাদে ঘুম ভাঙে রেলের। রবিবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ঘটনার সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে ‘পদপিষ্ট’ শব্দের উল্লেখ করা হয়। যার জেরে রেলমন্ত্রীকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলেছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে মৌনি অমবস্যার রাতে অমৃতস্নানকে ঘিরে কুম্ভমেলায় পদপিষ্টের ঘটনাতেও মৌনব্রত পালন করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর জানানো হয়েছিল, পদপিষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা ৩০। তবে আদতে সংখ্যাটা যে আরও বেশি, তা দৃঢ় ভাবে বলেছিলেন সাংসদ। তিনি বলেছিলেন, ‘মৃতের সংখ্যা ১০০ পেরিয়ে গেলেও অস্বাভাবিক নয়।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘কুম্ভমেলার প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা কম তবে ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচার হয় বেশি। শুধুই মার্কেটিং! এই একই দুর্ঘটনা যদি তামিলনাড়ু, বাংলার মতো কোনো অবিজেপি শাসিত রাজ্যে ঘটত তাহলে এতক্ষনে বিজেপি রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে আওয়াজ তুলতো।’ এবার দিল্লি দুর্ঘটনা নিয়েও সরব হলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।