শনিবার বরাক নদী থেকে উদ্ধার হয় উদ্বাস্তু ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৩ জনের দেহ। তারপরই আছড়ে পড়ে জনরোষ। হামলা শুরু হয় রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়কের বাড়িতে।মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের বাড়িতেও হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা।এরপরই রাজ্যজুড়ে লাগু করা হয় কার্ফু। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। বন্ধ হয়ে যায় বাজার, দোকান। গত সোমবারও জিরিবামে অসম সীমানা লাগোয়া অঞ্চল থেকে অপহরণ করা হয়েছিল ৬ জনকে। অভিযোগের তির ছিল কুকি গোষ্ঠীর দিকে। নদীতে দেহ মেলার পর থেকেই দিকে দিকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে মেইতেই গোষ্ঠী।
রবিবারও জিরিবাম জেলার জিরি নদীতে দেহ ভাসতে দেখা যায়। তার মধ্যে ছিল এক ষাটোর্ধ্ব মহিলার এবং বছর দুয়েকের এক শিশুর দেহ। শিশুটির দেহ ছিল মুণ্ডহীন। রবিবারই মেইতেই গোষ্ঠী মণিপুর সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি অভিযুক্তদের ধরা না হয়, বিক্ষোভ আরও জোরালো হবে।
হিংসার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মণিপুর পুলিশ। তাঁরা সকলেই ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম এবং বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা। রাজধানী ইম্ফল-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জারি করা হয়েছে কার্ফু। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। কার্ফুর মধ্যেই রবিবার রাতে জিরিবামের ৫টি গির্জা, স্কুল, পেট্রল পাম্প এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগও ওঠে। কে বা কারা এই হামলা চালায় তা স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে ইম্ফলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর ও রাজ্ ভবন এলাকায় কড়া টহলদারি চলছে। উত্তপ্ত মণিপুরে এখনও পর্যন্ত শান্তি ফিরিয়ে আনতে না পারায় বিজেপির জোট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে কনরাড সাংমার ন্যাশনাল পিপলস পার্টি।